সৌদি লিগের পঞ্চম রাউন্ডে নাটকীয়ভাবে আল নাসরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আল ইত্তিহাদ। এই জয়ে শীর্ষে থাকা আল হিলাল পেয়েছে শিরোপার লড়াইয়ে বড় সুবিধা।
ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে দারুণ আধিপত্য দেখায় আল ইত্তিহাদ। নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড জর্জ ইলেনিখেনার জোড়া গোলে তারা দুই গোলের ব্যবধান গড়ে তোলে। তবে বিরতির আগে অ্যাঞ্জেলোর গোলে ব্যবধান কমায় আল নাসর। দ্বিতীয়ার্ধের বেশির ভাগ সময় সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় সফরকারীরা।
৫ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আল নাসর। শীর্ষে থাকা আল হিলালের পয়েন্ট ১৫। আল ইত্তিহাদের এই জয়ে তাদের পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১১, অবস্থান চতুর্থ। ফলে সবচেয়ে বড় সুবিধা পেয়েছে আল হিলাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই তীব্র আক্রমণে যায় আল ইত্তিহাদ। পুরো মাঠে আল নাসরের খেলোয়াড়দের ওপর চাপ তৈরি করে তারা। ফলে পেছন থেকে আক্রমণ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে সফরকারীদের জন্য। শুরুতেই আল ইত্তিহাদের এই আগ্রাসী কৌশল স্পষ্ট সুবিধা এনে দেয়।
মাত্র ৪ মিনিটেই সেই চাপের ফল পায় স্বাগতিকরা। জর্জ ইলেনিখেনা গোল করে আল ইত্তিহাদকে এগিয়ে দেন।
১৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণও করেছিলেন ইলেনিখেনা। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে এক গোলের ব্যবধানেই টিকে থাকে আল নাসর। যদিও তখনও স্বাগতিকদের তীব্র চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল তারা।
আর মাত্র ৭ মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইলেনিখেনা। ২২ মিনিটে করা তার গোলটি বৈধ হওয়ায় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আল ইত্তিহাদ। ম্যাচে তার অসাধারণ প্রভাবও তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আধঘণ্টা পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে আল নাসর। শুরুতে যে সমস্যাগুলো তাদের ভুগিয়েছিল, সেগুলো কাটিয়ে ওঠে তারা। আল ইত্তিহাদের চাপও তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সামলাতে শুরু করে এবং আক্রমণভাগে বেশি সময় কাটাতে থাকে।
এর ফলও আসে দ্রুত। ৩৬ মিনিটে অ্যাঞ্জেলো শক্তিশালী শটে আল ইত্তিহাদের জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান ২-১ করেন। বিরতিতে যাওয়ার আগে নতুন করে আশা ফিরে পায় আল নাসর।
দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে সফরকারীরা। সমতা ফেরাতে আরও উদ্দেশ্যপূর্ণ আক্রমণ শুরু করে তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাওয়া গতি কাজে লাগিয়ে আল ইত্তিহাদের ওপর টানা চাপ সৃষ্টি করতে থাকে আল নাসর।
ফলে নিজেদের অর্ধে অনেকটা নেমে গিয়ে ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করতে হয় আল ইত্তিহাদকে। চাপের মধ্যেও তাদের খেলোয়াড়েরা অসাধারণ দৃঢ়তা দেখান। রক্ষণভাগের পাশাপাশি সার্বিয়ার গোলরক্ষক প্রেদ্রাগ রাজকোভিচের ওপরও বড় দায়িত্ব এসে পড়ে।
৫৫ মিনিটে আল নাসরকে সমতায় ফেরানোর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার জোরালো শট গোলের দিকে ছুটে গেলেও দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় তা ঠেকিয়ে দেন রাজকোভিচ। ফলে লিড ধরে রাখে আল ইত্তিহাদ।
এর মাত্র ৫ মিনিট পর আবারও পরীক্ষা দিতে হয় গোলরক্ষককে। এবার মোহামেদ সিমাকানের শক্তিশালী হেড ঠেকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধজুড়েই অসাধারণ মনোযোগ ধরে রাখেন রাজকোভিচ। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ প্রতিহত করে আল ইত্তিহাদের গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আল নাসরের টানা আক্রমণের চাপ সামলে ২-১ গোলের জয় নিশ্চিত করে আল ইত্তিহাদ।
এই জয়ে আল ইত্তিহাদের অবস্থান শক্ত হয়েছে, আর একই সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে বড় সুবিধা পেয়েছে শীর্ষে থাকা আল হিলাল।

