ফিফার প্রস্তাবিত বিনিয়োগ অংশীদার জোশ কুশনার বলেছেন, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ব্যর্থ বিশ্বকাপ বাণিজ্যিকীকরণ পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়ার জন্য তিনি অনুতপ্ত। ওই পরিকল্পনা বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করার পাশাপাশি তাকে আইনি জটিলতার মধ্যেও টেনে নিয়েছে।
ফিফাকে ঘিরে চলমান সংকট নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে গিয়ে কুশনার স্বীকার করেছেন, ‘বিশ্ব ফুটবলের রাজনৈতিক গতিশীলতা আমরা যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা যদি আমরা আগে জানতাম, তাহলে কখনোই এতে জড়াতাম না।’
গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা আদালতে করা এক আবেদনের মাধ্যমে কুশনার ও তার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটালের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আদালতে করা ওই আবেদনের উদ্দেশ্য হলো, সুইজারল্যান্ডে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আর্থিক অব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা।
তবে উয়েফার আবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য কোনো আইনি মামলায় থ্রাইভ বা কুশনারকে অভিযুক্ত করার পরিকল্পনা নেই।
জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশিত ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, থ্রাইভ ও কুশনারকে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে রাখা হয়েছিল। তারা ফিফাকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার দিয়ে সংস্থাটির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক আয়োজনগুলো পরিচালনা করার কথা ছিল।
পরিকল্পনাটি বিশ্ব ফুটবলের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ইনফান্তিনোর ১০ বছরের সভাপতিত্বের সময়ে উয়েফার সঙ্গে এটি তৃতীয় বড় ধরনের বিরোধের জন্ম দেয়।
এর আগে ২০১৮ সালে জাপানের সফটব্যাংকের সঙ্গে ২৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিতর্কিত পরিকল্পনা ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তারা আটকে দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে চার বছরের পরিবর্তে প্রতি দুই বছর পরপর পুরুষদের বিশ্বকাপ আয়োজনের ইনফান্তিনোর প্রচেষ্টাও তারা ঠেকিয়ে দেন।
কুশনার বলেন, ‘এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে সমানভাবে আরও বেশি মূলধন ও মালিকানার অংশ ছড়িয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত অনুন্নত দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো, স্থানীয় প্রতিভা গড়ে তোলা, তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবলকে সহায়তা করা, দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের সর্বত্র ফুটবলের বিকাশ ঘটানো।’
নিউইয়র্কভিত্তিক এই বিনিয়োগকারী আরও বলেন, ‘সব অংশীজনের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে থ্রাইভের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
বর্তমানে কুশনার ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের মালিকানা নেওয়ার একটি বড় বিনিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

