ঢাকা১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দুপুরের খাবারের পর ঘুম পাচ্ছে? কোনো রোগের ইঙ্গিত নয় তো!

admin
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লাইফস্টাইল ডেস্ক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুপুরের খাবার শেষ করার কিছুক্ষণ পরই অনেকের চোখ ভার হয়ে আসে, কাজে মন বসে না কিংবা ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছা করে। বিষয়টি অনেকের কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা খাবারের পর তৈরি হওয়া এই তন্দ্রাভাবকে ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’ বলে থাকেন।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিকিৎসক ডা. আইলিন ক্যান্ডে। তার মতে, খাবার গ্রহণের পর শরীর হজমের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং কিছুটা বিশ্রামধর্মী অবস্থায় যেতে পারে। অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছানো সংকেত, বিভিন্ন হরমোনের কার্যক্রম, রক্তে পুষ্টি উপাদানের পরিবর্তন এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের সক্রিয়তা সব মিলিয়েই খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হতে পারে।

সাধারণত খাওয়ার প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর এই অনুভূতি বেশি স্পষ্ট হয়। বিশেষ করে একসঙ্গে অনেকটা খাবার খেলে তন্দ্রাভাব বাড়তে পারে। তবে এর জন্য শুধু বেশি খাওয়াই দায়ী নয়। পর্যাপ্ত রাতের ঘুম না হওয়া, শরীরের প্রাকৃতিক সার্কাডিয়ান ছন্দ, অ্যালকোহল গ্রহণ, পানিশূন্যতা এবং কিছু ধরনের ওষুধও খাবারের পর ঘুমভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।

রক্তে শর্করার ওঠানামার প্রভাব

খাবারের ধরনও খাওয়ার পর শরীরের অনুভূতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ডা. আইলিনের মতে, খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার পরিবর্তনও তন্দ্রাভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

বিশেষ করে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ে এবং পরবর্তী সময়ে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে কারও কারও মধ্যে অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ঘুমভাব দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে ‘রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হয়।

সাদা ভাত, পেস্ট্রি ও অতিরিক্ত চিনি থাকা পানীয়ের মতো খাবার রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, চর্বি বেশি থাকা খাবার পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার গতি ধীর করতে পারে এবং শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রোটিনের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা বিষয়। বেশি পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করলে ট্রিপটোফ্যানের উৎপাদন বাড়তে পারে। এই উপাদান শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা ঘুম ও শিথিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

দুপুরের খাবারের পর সতেজ থাকতে কী করবেন?

খাবারের পর দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম ও সজাগ থাকতে চাইলে খাবারের প্লেটে শস্য, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির মধ্যে ভারসাম্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াও তন্দ্রাভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব হলেই সেটিকে রক্তে শর্করা কমে যাওয়া বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী খাবারের পর সাময়িক ক্লান্তি বা তন্দ্রা হওয়া সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু প্রতিবার খাবারের পরই যদি অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্লান্তি আসে, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।

বিশেষ করে এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা বা বেড়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কারণ এসব উপসর্গের পেছনে ইনসুলিন প্রতিরোধ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো বিপাকীয় সমস্যা থাকতে পারে। পাশাপাশি থাইরয়েডের কার্যকারিতায় অস্বাভাবিকতা কিংবা শনাক্ত না হওয়া ঘুমের সমস্যাও খাবারের পর অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

তাই খাওয়ার পর সামান্য ঘুমভাবকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া গেলেও, নিয়মিত ও তীব্র ক্লান্তিকে অবহেলা না করে অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।