ঢাকা১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এআইয়ের ছোঁয়ায় ফিরছে আশির দশক কেন টানছে এমন এক সময় যা দেখেনি নতুন প্রজন্ম

admin
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লাইফস্টাইল ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইন্টারনেট যেন হঠাৎ করেই ফিরে গেছে ১৯৮০-এর দশকে। ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে (সাবেক টুইটার) এখন দেখা যাচ্ছে একের পর এক ‘রেট্রো’ ছবি। সাধারণ সেলফিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে বদলে দেওয়া হচ্ছে ৮০-এর দশকের পুরোনো ছবির আদলে। বড় চুলের স্টাইল, সেই সময়ের পোশাক, উষ্ণ আলো এবং ফিল্ম ক্যামেরার মতো গ্রেইন সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে কয়েক দশক আগের আবহ।

ব্যবহারকারীরা নিজেদের বর্তমান ছবিকে এআই দিয়ে এমনভাবে রূপ দিচ্ছেন, যেন ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকেই। এরপর সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে অন্যদেরও একইভাবে ছবি তৈরির আহ্বান জানাচ্ছেন অনেকে।

প্রথম দেখায় বিষয়টি নিছক আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মজার ট্রেন্ড বলেই মনে হতে পারে। তবে এর পেছনে রয়েছে আরও বড় একটি বিষয়- নস্টালজিয়া বা অতীতের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ। এআইয়ের সাহায্যে এমন একটি সময়ের নিজের কাল্পনিক সংস্করণ তৈরি করা যাচ্ছে, যে সময় হয়তো অনেকেই কখনো দেখেনইনি।

কেন ৮০-এর দশকের প্রতি এত আকর্ষণ?

৮০-এর দশকের নিজস্ব একটি শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল পরিচিতি রয়েছে। চোখে পড়ার মতো পোশাক, ব্যতিক্রমী চুলের স্টাইল, পুরোনো ক্যামেরা এবং স্টুডিও পোর্ট্রেট সবকিছু মিলিয়ে ওই সময়ের ছবিগুলো সহজেই আলাদা করে চেনা যায়। এআই এখন খুব অল্প সময়েই এসব বৈশিষ্ট্য একটি ছবিতে যুক্ত করতে পারে। ফলে বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ সেলফিও দেখতে হয়ে ওঠে পুরোনো পারিবারিক অ্যালবামে থাকা ছবির মতো। তবে বিষয়টি শুধু ৮০-এর দশকেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি পুরোনো প্রযুক্তি, ফিজিক্যাল মিডিয়া ও রেট্রো সংস্কৃতির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটালনির্ভর জীবনের বিপরীতে জেন-জি প্রজন্মের একটি অংশ এমন কিছু খুঁজছে, যা তাদের কাছে বেশি বাস্তব ও স্পর্শযোগ্য মনে হয়।

নস্টালজিয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক কোথায়?

মনোবিজ্ঞানী ক্লে রাউটলেজ দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন, কেন তরুণরা এমন সময়ের প্রতিও আকৃষ্ট হন, যে সময় তারা নিজেরা দেখেননি। তিনি এটিকে ‘হিস্টোরিক্যাল নস্টালজিয়া’ বা ঐতিহাসিক নস্টালজিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার মতে, নস্টালজিয়ার অনুভূতি মানুষের জীবনে অর্থবোধ, সামাজিক সংযোগ, সৃজনশীলতা এবং আশাবাদ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্মার্টফোনের আগের সময়ের প্রতি জেন-জির আকর্ষণ নিয়েও সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে। রাউটলেজের দলের পরিচালিত কিছু জরিপে দেখা গেছে, জেন-জি প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এমন একটি সময়ের জন্য নস্টালজিয়া অনুভব করেন, যে সময়ে তারা নিজেরাই পৃথিবীতে ছিলেন না। তার ব্যাখ্যায়, এই আকর্ষণের পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করতে পারে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি এবং সামাজিক যোগাযোগ বা কমিউনিটি।

অর্থাৎ, ৮০-এর দশকের এই ট্রেন্ডের অর্থ হয়তো সবাই সত্যিই সেই সময়ে ফিরে যেতে চান এমন নয়। বরং ওই সময়ের সঙ্গে তারা যেসব অনুভূতি বা জীবনযাপনের ধারণাকে যুক্ত করেন, সেগুলোর প্রতিই হয়তো তাদের আকর্ষণ বেশি।

সবচেয়ে বেশি কী আকর্ষণ করছে?

হয়তো ধীরগতির জীবনযাপনের ধারণা। হয়তো এমন ছবি ভালো লাগছে, যেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার জন্য তৈরি হয়নি। পুরোনো দিনের গান, পারিবারিক অ্যালবামে জমে থাকা স্মৃতি কিংবা স্মার্টফোনের অবিরাম ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সেই সহজ মুহূর্তগুলোও হয়তো টানছে মানুষকে।

এই অনুভূতিকে নিজের বর্তমান জীবন নিয়েও ভাবার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। অতীত সত্যিই ভালো ছিল কি না, সেই প্রশ্নের বদলে ভাবা যেতে পারে কল্পিত সেই অতীতের কোন বিষয়টি আপনি নিজের বর্তমান জীবনে চান?

হতে পারে, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবারের সময় ফোন দূরে রাখা। অথবা ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করা। কিংবা কাছের মানুষদের সঙ্গে সামনাসামনি আরও বেশি সময় কাটানো।

নতুন প্রযুক্তি দিয়ে পুরোনো সময়কে ফিরিয়ে আনা

এই ট্রেন্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর বৈপরীত্য। যে এআই প্রযুক্তি দিয়ে মানুষ ৮০-এর দশকের ছবি তৈরি করছে, সেটিই আসলে এমন এক আধুনিক প্রযুক্তি, যা স্মার্টফোনের আগের সময়েও ছিল না। বর্তমান সময়ের একটি ছবি থেকে মুহূর্তেই তৈরি করা যাচ্ছে কল্পিত ৮০-এর দশকের পোর্ট্রেট। ইনস্টাগ্রামেও অনেকে নিজেদের তৈরি করা ছবি ও এআই প্রম্পট শেয়ার করছেন এবং অন্যদেরও একই ধরনের ছবি তৈরিতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

তাই এই ট্রেন্ডকে কেবল প্রযুক্তি থেকে পালানোর চেষ্টা হিসেবে দেখলে হয়তো পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। বরং এটি হতে পারে প্রযুক্তি ব্যবহার করেই নিজের জীবনে হারিয়ে যাওয়া কোনো অনুভূতি, সম্পর্ক বা জীবনযাপনের ধরনকে নতুন করে খুঁজে দেখার একটি উপায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।