ঢাকা৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যত্ন নেওয়ার পরও কম বয়সে পড়ছে চুল, নেপথ্যে যে কারণ

admin
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লাইফস্টাইল ডেস্ক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল পড়াকে একসময় বয়স বাড়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবেই দেখা হতো। বিশেষ করে চুল পেকে যাওয়া, মাথার কোনো নির্দিষ্ট অংশে চুল কমে যাওয়া কিংবা আগের তুলনায় চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বয়ঃসন্ধিকালের পরের স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করতেন অনেকে। তবে সেই ধারণা এখন আর পুরোপুরি খাটছে না। বর্তমানে ২০ বছর বয়সেই অনেক তরুণ-তরুণী চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত চুল ঝরা কিংবা চুলের ডগা ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন।

চেহারা ও ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চুলের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহও বেড়েছে। তাই চুলের সমস্যা দেখা দিলেই বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু, সিরাম, তেল ও অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রসাধনী পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। এর পেছনে জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক বিভিন্ন কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

মানসিক চাপও হতে পারে বড় কারণ

বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জীবনে পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র, অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত নানা দুশ্চিন্তা নিয়মিত সঙ্গী হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব। দীর্ঘদিনের এই মানসিক চাপ শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধির চক্রেও পরিবর্তন আনতে পারে।

তীব্র মানসিক চাপের পর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুলের ফলিকল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং পরবর্তী সময়ে চুল ঝরার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই অতিরিক্ত চুল পড়লে শুধু নতুন হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের দিকে না তাকিয়ে নিজের সাম্প্রতিক জীবনযাপন ও মানসিক চাপের মাত্রার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ডায়েটের ভুলেও দুর্বল হতে পারে চুল

ওজন কমানোর জন্য অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় কঠোর ডায়েট অনুসরণ করেন। কিন্তু খাবারের পরিমাণ বা ধরন হঠাৎ কমিয়ে দিলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এর প্রভাব চুলের ওপরও পড়তে পারে। চুলের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান দরকার। খাদ্যতালিকায় আয়রন, ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং চুল পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই শুধু কম খাওয়ার পরিবর্তে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।

ফ্যাশনের অতিরিক্ত চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চুল

চুল পড়ার কারণ সবসময় চুলের গোড়া বা ফলিকলের দুর্বলতা নয়। চুলের ওপর নিয়মিত অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিক প্রয়োগ করলেও চুল ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। স্ট্রেটনার, কার্লিং আয়রন কিংবা অতিরিক্ত হিট ব্যবহার চুলের গঠন নষ্ট করতে পারে। এর পাশাপাশি বারবার চুলে রং বা ব্লিচ করা, রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট নেওয়া, খুব শক্ত করে চুল বাঁধা কিংবা নিয়মিত হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার করার ফলেও চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যেতে পারে। একইভাবে দীর্ঘ সময় টাইট বা স্লিকড-ব্যাক হেয়ারস্টাইল রাখার অভ্যাসও চুলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

আরও যেসব কারণে চুল পড়তে পারে

জীবনযাপন ও হেয়ার স্টাইলিংয়ের পাশাপাশি মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, সংক্রমণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং বংশগত প্রবণতাও চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ভুল ধরনের হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার বা অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগও সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই অল্প বয়সেই চুল পড়ার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। চুলের যত্নের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, দৈনন্দিন রুটিন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ সবকিছুর দিকেই নজর দেওয়া উচিত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।