চলমান নারী এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে তিন বিভাগেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারতে হয় বাংলাদেশকে।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতের রান ১৫ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। ১৫ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৯৬ রান করেছিল ভারত। তবে ফিল্ডিংয়ে একাধিক সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয় বাংলাদেশকে। শেষ পাঁচ ওভারে ৫৩ রান তুলে ভারত ৬ উইকেটে ১৪৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়।
ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেন শেফালি ভার্মা। একাধিকবার জীবন পাওয়া এই ওপেনার ৪০ বলে ৬৪ রান করেন। শেষদিকে হারমানপ্রীত কৌর ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। রিচা ঘোষ করেন ২১ রান এবং দীপ্তি শর্মা মাত্র ছয় বলে অপরাজিত ১৩ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়ান।
বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা খাতুন ৩০ রানে ২ উইকেট নেন। মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান নেন একটি করে উইকেট।
জয়ের জন্য ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। ব্যাটারদের খেলায় লক্ষ্য তাড়া করার চেয়ে বড় ব্যবধানে হার এড়ানোর প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামা শোরনা আক্তার। ১৮ বলে এই রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। তবে ততক্ষণে ম্যাচ কার্যত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
জয়ের জন্য ওভারপ্রতি ৭ দশমিক ৫ রান প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশের টপ অর্ডার শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় গতি তুলতে পারেনি। দিলারা আক্তার ২৬ বলে ২১, জুয়ারাইয়া ফেরদৌস ১৮ বলে ১৪ এবং সোবহানা মোস্তারি ২৪ বলে ১৮ রান করেন। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও ১৭ বলে ১৯ রান করে আবারও দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হন।
এশিয়া কাপে জ্যোতির হতাশাজনক পারফরম্যান্সও শেষ হলো। চার ম্যাচে তার সংগ্রহ মাত্র ৫৬ রান।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দীপ্তি শর্মা। ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। নন্দিনী শর্মা শিকার করেন ২ উইকেট।
এই হারের ফলে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা পরাজয়ের সংখ্যা দাঁড়াল নয়টিতে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। চলতি আসরের আগের সংস্করণের সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।
এবারের আসরের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত রোববার একই ভেন্যুতে ফাইনাল খেলবে শ্রীলঙ্কা অথবা পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার কাছে শিরোপা হারানো ভারত এবার তা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে।

