আবরার ফাহিম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় আঘাত হেনেছে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়। গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে এবং মাঠের ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আম ও কলা চাষিরা এই আকস্মিক দুর্যোগে চরম সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৭ জুন বিকেলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে এবং সন্ধ্যার দিকে তীব্র বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শত শত গাছপালা উপড়ে পড়ে। ঝড়ের তীব্রতায় বহু কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। গাছের ডাল ও গাছ ভেঙে পড়ে বেশ কিছু বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের পর থেকেই পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে কৃষি খাতে। ঝড়ের প্রচণ্ড বাতাসে আম বাগানের সিংহভাগ আম ঝরে পড়েছে। এই মৌসুমে আমের ভালো ফলন আশা করলেও ঝড়ের কারণে চাষিদের সেই আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, ঝোড়ো হাওয়ার তোড়ে কলার বাগানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে; অধিকাংশ বাগানের কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। আম ও কলা চাষিরা জানান, এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এছাড়া মাঠে থাকা অন্যান্য মৌসুমি ফসল ও সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত এক আম চাষি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ঝড়ে আমার বাগানের প্রায় সব আম ঝরে গেছে। বাজারে বিক্রির উপযোগী হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই দুর্যোগ আমাদের পথে বসিয়ে দিল।”রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, ঝড়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “হঠাৎ ধেয়ে আসা এই কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার আম ও কলা চাষিদের বেশ বড় ক্ষতি হয়েছে। আমরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করছি। এই তালিকা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে যাতে সরকারি প্রণোদনা বা সহায়তা এলে কৃষকদের মাঝে তা দ্রুত বিতরণ করা যায়।”এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও দুর্গত মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

