নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: জসিম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে একই স্থানে বহাল থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও নানা অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট বদলি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের জোরে তিন দশক ধরে নিজ জেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছেন এই কম্পিউটার অপারেটর জসিম।
তলে তলে গড়ে তুলেছেন সম্পদের সাম্রাজ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, সর্বনিম্ন ৯,৩০০ টাকা মূল বেতন গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেওয়া জসিম উদ্দিন শিক্ষাজীবনে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ছিল তৃতীয় শ্রেণি। তবে দাপ্তরিক জালিয়াতি ও রাজনৈতিক চাটুকারিতার জোরে তিনি প্রায় অধরা থেকে যান। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর বদলির বিধান থাকলেও অদৃশ্য ক্ষমতার ছায়ায় জসিম উদ্দিন টানা ৩২ বছর একই টেবিলে বহাল। এই সময়ের মধ্যে জসিম উদ্দিন লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের অভিজাত এলাকায় সাড়ে সাত (৭.৫) শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী কেবল এই জমি ও বাড়ির মূল্যই কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া নিজ গ্রাম এবং রাজধানী ঢাকাতেও জসিম ও তার স্বজনদের নামে-বেনামে প্রচুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও অপরাধের বলয়
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লক্ষ্মীপুরের শীর্ষস্থানীয় বিতর্কিত রাজনীতিক, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী এবং সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার খানের ঘনিষ্ঠ সখ্য বজায় রেখে এই জসিম উদ্দিন অফিসে নিজের ক্ষমতা জাহির করতেন। এই রাজনৈতিক দাপট কাজে লাগিয়ে জসিম পিডব্লিউডিতে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, তদবির বাণিজ্য, কর্মচারীদের হয়রানি এবং সরকারি জমি দখল করে দোকানকোঠা নির্মাণের কাজ চালিয়ে গেছেন। অনুসন্ধানে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারি ও অপরাধী চক্রের সঙ্গেও জসিমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি
একজন সাধারণ কর্মচারীর এভাবে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া এবং অপকর্মের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে জসিম এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, “সরকারি চাকরি বিধিমালা ভঙ্গ করে ৩২ বছর একই পদে থাকা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। কোনো কর্মচারীর দুর্নীতির দায় দপ্তর নেবে না। অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

