সত্য সমাচার ডেস্ক:
১৯ জুলাই ২০২৬
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বফুটবলের শিরোপার লড়াই। প্রথমবারের মতো লড়াইয়ে নামবে ইউরোপসেরা ও গেল বিশ্বকাপজয়ীরা। ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা শিরোপা জয়ের জন্য নামবে আর্জেন্টিনা। আর ২০১০ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর এবার দ্বিতীয় ট্রফির মিশন স্পেনের। তারকারা কে কার পক্ষে?
মেসির হাতেই উঠবে কাপ
নাদিয়া আহমেদ
আর্জেন্টিনার সমর্থক অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ। তিনি আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখেছেন। সেই সময় একাধিক ছবিও পোস্ট করেছিলেন। তার পর থেকেই আর্জেন্টিনার খেলা হলে নিয়মিত গ্যালারিতে ফ্রেমবন্দি হওয়া ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন নাদিয়া। এসব ছবি ঘিরে খবরের শিরোনাম হচ্ছেন এই অভিনেত্রী। তিনি চাচ্ছেন মেসির হাতে কাপ দেখতে। ‘সরাসরি খেলা না দেখলে এটা বোঝা যায় না। চারপাশে সবার অপেক্ষা- মানুষটা কখন এসে দাঁড়াবেন, মানে মেসি।
স্টেডিয়ামে যখন আমি প্রথম গেলাম অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কোন দেশ থেকে এসেছি জানতে চেয়েছেন। বাংলাদেশ বলার পর আর্জেন্টাইনরা সঙ্গে সঙ্গে চিনেছে, বলেছে, ‘তোমরা আমাদের বন্ধু।’ মাঠেও আমাদের পাশে অনেকে ছিলেন। তারাও বলছিলেন- তোমাদের সঙ্গে খেলা দেখে অনেক ভালো লাগল। লিওনেল মেসি বয়সকে হার মানিয়ে এখনও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জাদু দেখিয়ে চলেছেন। সত্যি বলতে, সে আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলছে। তার মধ্যে দারুণ সতেজতা রয়েছে। নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তো সবসময়ই ছিল; কিন্তু এখন সে ভীষণ কার্যকর। সে খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলছে। নিজে গোল করার বদলে সতীর্থদের দিয়ে গোল করাচ্ছে। মিশরের বিপক্ষে করেছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও করেছে। তাই যতদিন তাকে এভাবে খেলতে দেখি, ততদিন আমাদের তাকে উপভোগ করা উচিত।
আমার বাজি ইয়ামালের পক্ষে
সিয়াম
স্প্যানিশ ফুটবলের ছন্দময় পাসিং, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ এবং নান্দনিক খেলার ধরনই আমাকে দীর্ঘদিন ধরে মুগ্ধ করে রেখেছে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্পেন ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষ মেসির আর্জেন্টিনা। নক আউটের প্রতিটি খেলায় আর্জেন্টিনার পারফরম্যন্সে মুগ্ধ ফুটবল বিশ^। তাই তাদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা নিশ্চয়ই রেখেছে স্পেন। তবে আমি আশাবাদী এবং আমি বিশ্বাস করি এবারের বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে স্পেনই। স্পেনের খেলায় এমন এক স্বতন্ত্র সৌন্দর্য রয়েছে, যা অন্য অনেক দলের চেয়ে আলাদা। আর সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে দলটির প্রতি আমার ভালোবাসা অটুট রয়েছে।
২০০৭ সাল থেকেই স্পেনকে সমর্থন করে আসছি। বিশেষ করে স্প্যানিশ ফুটবলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ডেভিড ভিয়ার খেলা আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছিল। ডেভিড ভিয়ার প্রতি মুগ্ধতা থেকেই স্পেনের প্রতি ভালোবাসা। এবার আমার বাজি ইয়ামালের পক্ষে। বিশ্বকাপের এবারের আসরের ম্যাচগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখেছি। স্পেনের কোনো ম্যাচই মিস করিনি।
আমি কুফা ভক্ত
মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া
এবারের বিশ্বকাপে একের পর এক সমর্থন করা দল বিদায় নেওয়ায় অনেকেই তাকে ‘কুফা ভক্ত’ বলে সম্বোধন করছেন। বিশ্বকাপের শুরুতে বরাবরের মতো সমর্থন করেছিলেন জার্মানিকে; কিন্তু প্রিয় দলটি রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। এরপর ব্রাজিলের পক্ষে থাকেন; কিন্তু সেই দলও বিদায় নেয়। জাপানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখতে চাইলেও তাদের যাত্রাও বেশিদূর এগোয়নি। একের পর এক এমন ফলাফলের পর নিজের সমর্থন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জীবনের এই নিরীক্ষাটা এবার সিরিয়াসলি করব।’
হাস্যরসের সুরে আরও বলেন, আর্জেন্টিনা সমর্থনের পর যদি হেরে যায়, তার পর থেকে ফুটবল খেলা দেখাই বন্ধ করে দেব। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে যদিও এটা আমার জন্য খুবই হতাশার। কারণ, আমি ফুটবল ভীষণ ভালোবাসি, অথচ বারবার আমার সমর্থন করা দলগুলো টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিচ্ছে। আশপাশের অনেক মানুষ আমাকে ‘কুফা ভক্ত’ বলে ডাকতে শুরু করেছে।

