ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার সেফেরিন। তবে একই সঙ্গে সেফেরিন সতর্ক করে বলেছেন, ইনফান্তিনোকে হয় পদত্যাগ করতে হবে, নয়তো আগামী মার্চে নেতৃত্বের নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় ক্রমেই চাপের মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। তিনটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা তার বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার’ অভিযোগ তুলেছে। এমনকি ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকিও দিয়েছে উয়েফা।
ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সেফেরিনের নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও ৫৮ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উয়েফার দায়িত্বেই থাকতে চান তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে সেফেরিন বলেন, ‘আমি আগ্রহী নই, এর দুটি কারণ আছে। প্রথম কারণ, আমি উয়েফাকে ভালোবাসি এবং এখানে কাজ করতে ভালোবাসি। আমার মনে হয়, একটা সময় জীবনের আনন্দও কিছুটা উপভোগ করার সময় আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় কারণ হলো, আমি যদি এই পদে আগ্রহী না থাকি, তাহলে আমার বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি থাকবে।’
ফিফার পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা ইনফান্তিনো প্রকাশ করার পর থেকেই তার বিরোধিতায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন চেফেরিন।
একসময় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনোকে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হলেও সেফেরিনের ধারণা, আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে পুনর্নির্বাচনের চেষ্টা করলে তাকে হয় পদ ছাড়তে হবে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হবে।
সেফেরিন বলেন, ‘প্রতিদিনই পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। প্রতিদিনই ভিন্ন ভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। বিতর্ক শুরুর পর থেকে আমি তার সঙ্গে কথা বলিনি। তবে দুটি সম্ভাবনা আছে।’
তিনি বলেন, ‘একটি হলো, তিনি বুঝতে পারবেন যে তার সমর্থন নেই। শুধু যারা ভোট দেন, তাদের রাজনৈতিক সমর্থন নয়; ফুটবল সম্প্রদায়, সমর্থক, বর্তমান খেলোয়াড়, সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ।’
‘আর দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো, তিনি মার্চের নির্বাচনে অংশ নেবেন। সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, তার বিরুদ্ধে একজন প্রার্থী থাকবেন। তবে কে হবেন, তা এখনো জানি না,’ যোগ করেন সেফেরিন।
সপ্তাহান্তে ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ছিলেন ইনফান্তিনো। সেখানে তার পদত্যাগের ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে অদ্ভুতভাবে বলেন, ‘চুল কাটার দোকানে দেখা হবে।’ প্রশ্নটি করেছিলেন স্কাই নিউজের সাংবাদিক জেমস ম্যাথিউস, যিনি ইনফান্তিনোর মতোই টাক মাথার অধিকারী।
উয়েফা, কনকাকাফ ও এশীয় ফুটবল কনফেডারেশন—এই তিন মহাদেশীয় সংস্থা ফিফা কংগ্রেসে অনাস্থা ভোট আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এমনটি হলে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা যথাক্রমে ক্যাফ ও কনমেবল এখনো তার পাশে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফা প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় ইউরোপের দেশগুলোর ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তৎকালীন ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান গ্রেগ ডাইকও তার প্রচারণায় সমর্থন দিয়ে তাকে ‘সোজাসাপ্টা মানুষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
তবে বিশ্বকাপ-পরবর্তী বিতর্কের পর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
ইনফান্তিনো ও ফিফার পক্ষ থেকে উয়েফা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ফুটবল ফেডারেশন ও ক্লাবগুলোর স্বার্থে কাজ করছে—এমন ধারণাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন চেফেরিন।
তিনি বলেন, ‘আমি যা শুনছি, তাতে তারা বলছে, অহংকারী ইউরোপ আমাদের বিরুদ্ধে। তাদের যথেষ্ট অর্থ আছে, কিন্তু আমি ছোট ও দরিদ্রদের সাহায্য করি—এ ধরনের কথাবার্তা।’
সেফেরিন আরও বলেন, ‘তবে আমার মনে হয়, কেউ একজন তাকে মনে করিয়ে দেওয়া উচিত যে তিনিও একজন ইউরোপীয়। আর তিনি ফিফা সভাপতি হওয়ার সময় উয়েফাই তাকে সমর্থন করেছিল—যেটি তিনি ভুলে গেছেন।’

