দীর্ঘদিনের চিকিৎসাজনিত ওষুধের পাশাপাশি গাঁজাও ছেড়ে দিয়ে এখন সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জীবনযাপন করছেন হলিউড অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন। তবে এই পথে আসা মোটেও সহজ ছিল না বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, স্ট্রোকের একটি ওষুধ ছাড়ার অভিজ্ঞতা ছিল ‘হেরোইন ছাড়ার মতোই কঠিন’।
১৯৯২ সালের সিনেমা ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া শ্যারন স্টোন সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলসে নিজের বাড়িতে এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য, শিল্পচর্চা, মডেলিংয়ে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
আন্তর্জাতিক বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী ‘ভ্যারাইটি’র এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০০১ সালে প্রায় প্রাণঘাতী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করতে হয়েছে শ্যারন স্টোনকে।
অভিনেত্রী জানান, গত সেপ্টেম্বরে তিনি স্ট্রোকের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেন। যদিও চিকিৎসকেরা তাকে সতর্ক করেছিলেন, ওষুধটি বন্ধ করা উচিত নয়। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন স্টোন।
তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, ওষুধটি বন্ধ করতে চাই। কিন্তু এটি ছাড়ার অভিজ্ঞতা ছিল হেরোইন ছাড়ার মতো। সাড়ে চার মাস ভয়াবহ অসুস্থ ছিলাম। তবু মনে হচ্ছিল, আমি আমার জীবনটা ফিরে পেতে চাই।’
বছরের পর বছর ধীরে ধীরে বেশির ভাগ ওষুধ বন্ধ করেছেন জানিয়ে স্টোন বলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ ওষুধমুক্ত জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন।
এরপর গাঁজা ছাড়ার সিদ্ধান্তও নেন তিনি। তবে সেটিও সহজ ছিল না। গাঁজা ছাড়ার পর প্রায় এক মাস অসুস্থ ছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী। পরে তার নিউরোলজিস্ট তাকে সতর্ক করে বলেন, গাঁজা-সম্পর্কিত জটিলতায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও তিনি দেখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়েও কথা বলেছেন শ্যারন স্টোন। তিনি জানান, একসময় তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৪০ থেকে ৫০ লাখ অনুসারী থাকলেও তাদের সঙ্গে তেমন সক্রিয় যোগাযোগ ছিল না। পরে তার ছেলে পুরো অ্যাকাউন্টটি নতুনভাবে সাজিয়ে দেন। এরপর সামাজিক মাধ্যমে তার অনুসারীদের সক্রিয়তা অনেক বেড়েছে। তবে ইনস্টাগ্রামে আগের মতো সবাইকে অনুসরণ না করায় কিছু অনুসারী ক্ষুব্ধও হয়েছেন।
হাসতে হাসতে স্টোন বলেন, অনেকেই তাকে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছেন, কেন তিনি তাদের আর অনুসরণ করছেন না। তার মতে, যেন সামাজিক মাধ্যমে কাউকে অনুসরণ করা মানেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রমাণ!
জানা গেছে, অভিনয়ে আসার আগে কলেজে চারুকলা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন শ্যারন স্টোন। করোনাকালে ঘরবন্দী থাকার সময় আবারও ছবি আঁকায় ফিরে যান তিনি। প্রথমে নিজের শোবার ঘরে ছোট একটি স্টুডিও তৈরি করেছিলেন। ধীরে ধীরে পুরো ঘরই স্টুডিওতে পরিণত হয়। দেয়ালে পেরেক পুঁতে বড় বড় ক্যানভাস ঝুলিয়ে মাসের পর মাস ছবি আঁকায় ব্যস্ত থেকেছেন তিনি। পরে তার তিন ছেলে রোয়ান, লেয়ার্ড ও কুইন মায়ের জন্য অতিথিশালায় আলাদা একটি স্টুডিও তৈরি করে দেন। বর্তমানে তার আঁকা ছবি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্যালারিতে বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরের জুনে ৩৩ বছর পর আবারও র্যাম্পে হাঁটেন শ্যারন স্টোন। প্যারিসে ভেতেমেঁর পুরুষদের ফ্যাশন শোর সমাপনী মডেল ছিলেন তিনি। ব্র্যান্ডটির সৃজনশীলতা এবং পাঙ্ক ধাঁচের ভাবনা তাকে আকৃষ্ট করেছে বলে জানান স্টোন। তরুণ বয়সে ইউরোপে মডেলিং করার সময় থেকেই পাঙ্ক সংস্কৃতির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল।
জানা গেছে, অভিনয়ে নতুন করে ফিরতে চান শ্যারন স্টোন। তার অন্যতম বড় স্বপ্ন এখন ব্রডওয়েতে অভিনয় করা। বিশেষ করে ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ নাটকে ‘মার্গো চ্যানিং’ চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্টোন বলেন, ‘আমি যখন এসব পরিকল্পনার কথা বলি, অনেকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু মানুষ যাই ভাবুক, আমি এখন জীবনটা উপভোগ করছি।’
তিনি আরও বলেন, গত এক বছর ধরে তার মনে হচ্ছে, তিনি সত্যিই নিজের জীবনকে আবার নিজের হাতে ফিরে পেয়েছেন।

