নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান পরিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ইন-সিটু) রাবেয়া বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ (জি.ও.) ছাড়াই গোপনে তিন দফায় বিদেশ ভ্রমণ, সরকারি বেতন-ভাতা আত্মসাৎ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য ও লাখ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিলকৃত একটি অভিযোগপত্র থেকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাবেয়া বেগম বিউবোতে কর্মরত থাকা অবস্থায় কোনো দাপ্তরিক অনুমোদন বা সরকারি আদেশ ছাড়া নিজের পাসপোর্ট (নম্বর- BB0107844) ব্যবহার করে ভারতে ভ্রমণ করেন। বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন, বিশেষ শাখা) কর্তৃক প্রেরিত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর অবৈধ বিদেশ ভ্রমণের তথ্য প্রমাণিত হয়েছে:
১. প্রথম দফায় ২০১৪ সালের ০২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ দিন।
২. দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট থেকে ০৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিন (যার মধ্যে মাত্র ৪ দিন ছুটি নিয়ে বাকি সময় অবৈধভাবে বিদেশে কাটানো হয়)।
৩. তৃতীয় দফায় ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ০১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১ দিন।
এভাবে অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান করেও তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন, যা বোর্ডের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।
তদন্তে অনীহা ও প্রমোশন:
অভিযোগে প্রকাশ, রাবেয়া বেগমের এই অবৈধ ভ্রমণে সহায়তা করেছিলেন নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান পরিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক বেগ নাসির জাহান ও উপ-পরিচালক মো: গোলাম কিবরীয়া। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখেন এবং তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও রাবেয়া বেগমকে শাস্তির পরিবর্তে পদোন্নতি ও ঢাকাতেই ইন-সিটু পদায়ন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রতিবাদকারীদের চাকরিচ্যুত ও দপ্তরে ডেকে এনে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
বদলি বাণিজ্য ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঘুষ লেনদেন:
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিচালক বেগ নাসির জাহান, উপ-পরিচালক মো: গোলাম কিবরীয়া, গাড়িচালক (কাজ নাই মজুরি নাই ভিত্তিতে নিয়োজিত) মহাদেব রায় এবং নিরাপত্তা প্রহরী নাজমুল সরদারের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেট নিরাপত্তা প্রহরীদের বদলির বিনিময়ে ক্ষেত্রবিশেষে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করছে। বদলি বাণিজ্যের এই ঘুষের টাকা সোনালী ব্যাংকে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী নাজমুল সরদারের একটি বেতনিক অ্যাকাউন্টের (নম্বর- ১৬১১৬০ ১০০৯৭৪৮) মাধ্যমে লেনদেন করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

