ঢাকা৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিষণ্নতা কীভাবে মানুষকে আত্মহত্যার চিন্তার দিকে ঠেলে দেয়

admin
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৬:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লাইফস্টাইল ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে হতাশা ও বিষণ্নতার সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, কর্মজীবনের চাপ কিংবা জীবনের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা অনেক সময় মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা ও অনুভূতিকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, সে নিজের পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।

মানসিক স্বাস্থ্য ও মানব আচরণবিষয়ক মার্কিন সাময়িকী সাইকোলজিক্যাল টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার হার কমার প্রবণতা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদে এর হার বেড়েছে। দেশটিতে ১৯৯৯ সালের পর আত্মহত্যার হার প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে আত্মহত্যার হার ছিল ১৪ দশমিক ২ জন, যা পরবর্তী সময়ে সামান্য কমে ১৪ দশমিক ১২ জনে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী এবং পুরুষদের মধ্যে ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের আত্মহত্যার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সঙ্গে শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষণ্নতার সঙ্গে আত্মহত্যার সম্পর্ক

আত্মহত্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এর সঙ্গে কোনো না কোনো মানসিক সমস্যার সম্পর্ক দেখা যায়। এর মধ্যে বিষণ্নতা অন্যতম। বিষণ্নতার মাত্রা যত বাড়ে, আত্মহত্যার চিন্তা বা আচরণের ঝুঁকিও ততটা বাড়তে পারে। তবে বিষণ্নতায় আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মহত্যার কথা ভাবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতায় থাকা একটি অংশের মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা দেখা দিতে পারে এবং তাদের মধ্যে আরও ছোট একটি অংশ আত্মহত্যার পরিকল্পনা বা চেষ্টা করতে পারে।

বিষণ্নতা কীভাবে পরিস্থিতিকে জটিল করে

বিষণ্নতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নেতিবাচক চিন্তা দীর্ঘ সময় ধরে মনের মধ্যে সক্রিয় থাকা। একজন মানুষ তখন বর্তমান সমস্যার পাশাপাশি অতীতের ব্যর্থতা, সম্পর্কের ভাঙন, প্রিয়জন হারানোর কষ্ট কিংবা শৈশবের কোনো কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়েও বারবার ভাবতে পারেন। ফলে মানসিক চাপ ও কষ্ট আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন আশাবাদও তখন অনেকের কাছে কল্পনা করা কঠিন হয়ে যায়। এই অবস্থায় কেউ কেউ নিজের মানসিক যন্ত্রণা থেকে বের হওয়ার পথ হিসেবে ভুলভাবে আত্মহত্যার চিন্তাকে দেখতে পারেন।

কোন বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়াতে পারে

বিষণ্নতার পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরিবারের কারও আত্মহত্যার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। একইভাবে অতীতের গুরুতর মানসিক আঘাত বা ট্রমা, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এবং মাদকাসক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তরুণদের ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, চাকরি হারানো, আর্থিক বা সামাজিক সংকট এবং গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকেও তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাদকাসক্তির সঙ্গে বিষণ্নতা যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

প্রত্যাখ্যানের মানসিক প্রভাব

কোনো সম্পর্কের বিচ্ছেদ, বন্ধুর কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি হওয়া কিংবা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অনুভূতি অনেকের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রত্যাখ্যানের মতো সামাজিক অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে শারীরিক ব্যথার সঙ্গে কিছুটা মিল থাকা প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। শারীরিক কষ্টের মতো মানসিক কষ্টও স্মৃতির মাধ্যমে বারবার ফিরে আসতে পারে। ফলে কোনো নেতিবাচক ঘটনা নিয়ে বারবার চিন্তা করলে সেই কষ্টের অনুভূতিও পুনরায় তীব্র হতে পারে।

কীভাবে বোঝা যাবে কেউ ঝুঁকিতে আছেন

আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি কখনো কখনো নিজের কথাবার্তা বা আচরণের মাধ্যমে সংকেত দিতে পারেন। যেমন, জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নেই, নিজেকে সবার জন্য বোঝা মনে হচ্ছে, আটকে পড়েছেন বা অসহনীয় মানসিক কষ্টের মধ্যে আছেন এ ধরনের কথা বলা।

নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেওয়া, হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস অন্যদের দিয়ে দেওয়া, পরিচিতদের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে বিদায় নেওয়ার মতো আচরণও সতর্কতার কারণ হতে পারে। অনলাইনে আত্মহত্যা সম্পর্কিত তথ্য খোঁজার মতো আচরণও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কেউ আত্মহত্যার কথা বললে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলা এবং সরাসরি জানতে চাওয়া যেতে পারে সে নিজেকে আঘাত করার কথা ভাবছে কি না। সরাসরি প্রশ্ন করলে আত্মহত্যার ধারণা তৈরি হয় এমন ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং সহানুভূতির সঙ্গে কথা বলা ওই ব্যক্তিকে নিজের কষ্ট প্রকাশের সুযোগ দিতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন কোনো সংকেত দেখা গেলে তাকে একা না রাখা এবং দ্রুত পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা। মানসিক সংকট স্থায়ী নয়। সঠিক সময়ে সহায়তা, চিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন পেলে অনেক মানুষই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।