সকালের কফি অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে কফি তৈরির পদ্ধতি শরীরের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে নতুন গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, ইনস্ট্যান্ট কফির তুলনায় ফিল্টার করা কফি পানকারীদের শরীরে বয়স বাড়ার গতি তুলনামূলক ধীর হতে পারে।
এনপিজে সাইন্স অফ ফুড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের ৪৯ হাজার ৪১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৬.৪ বছর। তাদের খাদ্যাভ্যাস, কফি পানের ধরন, রক্ত পরীক্ষা এবং বিভিন্ন শারীরিক পরিমাপের তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।
গবেষণায় দেখা যায়, ফিল্টার করা কফি পানকারীদের শরীরে দ্রুত বয়স বাড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল। তাদের টেলোমিয়ারও সাধারণত দীর্ঘ ছিল। অন্যদিকে, ইনস্ট্যান্ট কফি পানকারীদের মধ্যে দ্রুত বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিবর্তন এবং তুলনামূলক ছোট টেলোমিয়ার দেখা গেছে। তবে অন্যান্য পদ্ধতিতে তৈরি কফির ক্ষেত্রে একই ধরনের ধারাবাহিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
গবেষকেরা জানান, ফিল্টার করা কফিতে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, পলিফেনল, ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো বিভিন্ন জৈবিকভাবে সক্রিয় উপাদান থাকে। আগের বিভিন্ন গবেষণায় এসব উপাদানের সঙ্গে শরীরে প্রদাহ কমা, ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়া এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
কফি তৈরির পদ্ধতি কেন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তার আরেকটি সম্ভাব্য কারণও রয়েছে। ফিল্টার না করা কফিতে ক্যাফেস্টল ও কাহওয়েওলের মতো প্রাকৃতিক যৌগের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে এসব যৌগ গ্রহণ করলে রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে। তবে ফিল্টার পেপার এসব যৌগের বড় একটি অংশ আটকে দেয়।
তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে ইনস্ট্যান্ট কফি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ফিল্টার ও ইনস্ট্যান্ট কফির মধ্যে যে পার্থক্য পাওয়া গেছে, তা তুলনামূলকভাবে খুবই সামান্য। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শরীরের বয়স বাড়ার গতিতে এই পার্থক্য আনুমানিক ০.১ থেকে ০.২ বছরের সমান। ফলে ফলাফলটি পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ওপর এর বাস্তব প্রভাব কতটা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এ ছাড়া গবেষণাটি ছিল পর্যবেক্ষণমূলক ও ক্রস-সেকশনাল। ফলে কফির ধরন সরাসরি শরীরের বয়স বাড়ার গতি কমায় বা বাড়ায় এমন কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। ফিল্টার কফি পানকারীদের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, আর্থসামাজিক অবস্থা, ঘুম ও ব্যায়ামের অভ্যাস ইনস্ট্যান্ট কফি পানকারীদের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। এসব বিষয়ও গবেষণার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি ও স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়ার সম্পর্ক নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। তাই শুধু কফির ধরন পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার মতো সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

