ঢাকা২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুই বছর নিষিদ্ধ মাবিয়া

admin
এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৩ এপ্রিল ২০২৬

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক এবং এসএ গেমসে টানা দুইবারের স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (ওয়াদা) কোড অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

তবে এই শাস্তির পর হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মাবিয়া। তার দাবি, তিনি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনেই ওষুধ সেবন করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানিয়েছিলেন।

জানা গেছে, গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শুরুর আগে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনায় নিষিদ্ধ ‘ডাইইউরেটিক্স’ (উরঁৎবঃরপং) নামক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

ডাইইউরেটিক্স মূলত এমন এক ধরনের ওষুধ, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেয় (যাকে ওয়াটার পিলস বলা হয়)। এটি দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক হলেও খেলাধুলায় এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কারণ এটি অন্য নিষিদ্ধ উপাদান লুকানোর জন্য ‘মাস্কিং এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করতে পারে। ভারোত্তোলনের মতো ওজনভিত্তিক খেলায় এর ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনশীল।

গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে মাবিয়াকে দুই বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ও প্রতিযোগিতামূলক সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মাবিয়া। তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে যে ওষুধ তিনি খেয়েছিলেন তার প্রেসক্রিপশন তার কাছে রয়েছে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘এখন আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সব দোষ আমারই হবে। কিন্তু এত দিন যাবৎ সব সেমিনারে আমাদেরকে বলা হয়েছে, ‘নাপা বা যে কোনো ওষুধ যেটাই খাও, আমাদেরকে প্রেসক্রিপশন দেখাবে; প্রেসক্রিপশন থাকতে হবে।’ এর বেশি কিছু কোনো সেমিনারে আমাদের বলা হয়নি। তো আমি যে ওষুধ খেয়েছি বা আমি যে মেডিকেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি তার সবই সকলে জানত। সবকিছুর প্রেসক্রিপশন আমার কাছে আছে। কিন্তু এখন যেহেতু শাস্তি হয়ে গেছে, এখন তো সব দোষ আমারই হবে।’

কর্তৃপক্ষকে প্রেসক্রিপশন না দেখানোর অভিযোগও দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন এই তারকা ভারোত্তোলক। তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি এমনটা বলা হচ্ছে। তবে আমি প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি। শফিক সাহেব এখন বলছেন আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি। কিন্তু আমি তাকে প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি।’

আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং বিধি অনুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে মাবিয়ার। আপিলের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি খুব বেশি অবগত না হলেও, ১৪ দিনের মধ্যেই আপিল করার কথা জানিয়েছেন তিনি। মাবিয়া বলেন, ‘আপিলের বিষয়ে আমি আসলে জানি না, আপিল কীভাবে করতে হয় সেটাও আমি জানি না। তবে আমি সব খোঁজখবর নিচ্ছি, আমি আপিল করব। সময় কম, ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। প্রয়োজনে মার্সি (ক্ষমা) চেয়ে আপিল করতে পারি।’

মাদারীপুরের মেয়ে মাবিয়া আক্তার সীমান্তের ক্যারিয়ার কখনই খুব মসৃণ ছিল না। চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই ভারোত্তোলক ২০১৬ সালের এসএ গেমসে (৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে) স্বর্ণ জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। এরপর ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসেও তিনি স্বর্ণ জেতেন এবং টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।

২৬ বছর বয়সী দেশের এই শীর্ষ ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত। এখন তিনি আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের নিষেধাজ্ঞা কমাতে পারেন কিনা, তা-ই দেখার বিষয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।