ঢাকা২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্ত্রী বেশি আয় করলে স্বামীর মানসিক স্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়ে, বলছে গবেষণা

admin
জুলাই ২৩, ২০২৬ ৫:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৬

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকারের ক্ষেত্রে নারীরা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছেন। তবে পরিবারের আর্থিক ভারসাম্যে এই পরিবর্তনের প্রভাব কী? দীর্ঘ ১৭ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, যেসব পরিবারে স্ত্রী প্রধান উপার্জনকারী, সেখানে স্বামীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

স্ত্রী পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হলে বাড়ে ঝুঁকি

সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিস্টের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চাকরিজীবী তরুণ দম্পতিদের প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করেন। তবে যেসব পরিবারে স্ত্রীর আয় পরিবারের মোট আয়ের ৭০ শতাংশ বা তার বেশি, সেখানে স্বামীদের গুরুতর মানসিক চাপে ভোগার আশঙ্কা প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে যায়।

লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। অবিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে নারী সঙ্গী পরিবারের মোট আয়ের অর্ধেক বা তার বেশি উপার্জন করলে পুরুষ সঙ্গীর বিষণ্ণতায় ভোগার হার প্রায় দেড় গুণ বেশি দেখা যায়।

গবেষকরা শিক্ষা, বয়স ও দম্পতিদের আয়ের অন্যান্য পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাননি।

‘দ্বিগুণ বোঝা’ বহন করছেন নারীরা

তবে এই চাপ শুধু পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উচ্চ উপার্জনকারী নারীদের মধ্যেও সম্পর্কের প্রতি সন্তুষ্টি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।

ইউনিভার্সিটি অব কানসাসের অর্থনীতিবিদ ড. মিস্টি হেগনেসের মতে, স্ত্রী পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হোন বা না হোন বেশিরভাগ পরিবারে ঘরের কাজের বড় অংশের দায়িত্ব এখনও নারীদের ওপরই থাকে। ফলে অনেক নারীকে একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র ও সংসারের দায়িত্ব সামলাতে হয়। এই ‘দ্বিগুণ বোঝা’ বা ‘ডাবল বার্ডেন’ সম্পর্কের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্ত্রীর আয় স্বামীর চেয়ে বেশি হলে অস্বস্তি?

২০১৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় অর্থনীতিবিদ মারিয়েন বার্ট্রান্ড দেখিয়েছিলেন, অনেক পরিবারে স্ত্রীর আয় স্বামীর আয়ের ঠিক নিচে অবস্থান করে। গবেষকদের মতে, এর পেছনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রত্যাশার ভূমিকা থাকতে পারে।

অর্থাৎ, অনেক দম্পতি সচেতনভাবে না হলেও এমনভাবে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, যাতে স্ত্রী স্বামীর চেয়ে বেশি উপার্জনকারী না হন। পুরুষকে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হিসেবে দেখার দীর্ঘদিনের সামাজিক ধারণা এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

ফরাসি গবেষণাতেও দেখা গেছে, যেসব পরিবারে স্ত্রী মোট পারিবারিক আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ উপার্জন করেন, সেসব দম্পতির বিচ্ছেদের ঝুঁকি অন্যান্য দম্পতির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।

বদলাচ্ছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র ১০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, স্ত্রীর আয় স্বামীর চেয়ে বেশি হওয়া সমস্যাজনক। ১৯৯৮ সালে এই হার ছিল এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। অর্থাৎ, সমাজে নারীর বেশি আয় নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচকভাবে বদলাচ্ছে। কিন্তু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে পুরোনো লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং পুরুষত্বের প্রচলিত ধারণা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

গবেষকদের মতে, নারীর অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিজে কোনও সমস্যা নয়। বরং সমস্যার মূল কারণ হতে পারে পরিবারের দায়িত্ব ভাগাভাগি, সামাজিক প্রত্যাশা এবং পুরুষ ও নারীর ভূমিকা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা। কর্মক্ষেত্রে সমতা যতটা এগিয়েছে, পারিবারিক জীবনে সেই সমতা প্রতিষ্ঠার কাজ এখনও ততটা এগোয়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।