প্রথম টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে লড়াইয়ের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ। তবে শীর্ষ সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে ছয় উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের অফস্পিনার কোরি রকিচিওলি।
বৃহস্পতিবার ডারউইনে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। তৃতীয় ওভারেই কোনো রান না করেই ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম।
এরপর বাঁহাতি ব্যাটারসমৃদ্ধ বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে দারুণ সফল হন রকিচিওলি। তিনি প্রথমে শাদমান ইসলামকে পয়েন্টে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। পরে মুমিনুল হককে স্লিপে ক্যাচ বানান। এই সাফল্য অস্ট্রেলিয়ার প্রধান স্পিনার নাথান লায়নের জন্যও বাড়তি আগ্রহের বিষয় হতে পারে।
দিন শেষে রকিচিওলি বলেন, ‘আমি যে ধরনের উইকেট আশা করেছিলাম, এটি তার চেয়ে আলাদা ছিল। এখানে অনেক ম্যাচ খেলেছি। সাধারণত শুরুতে উইকেট এতটা আঠালো বা স্পিনসহায়ক থাকে না। আজ এমন আচরণ কিছুটা অবাক করেছে।’
এক পর্যায়ে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৯৪ রানে পৌঁছে যায়।
সেখান থেকেই ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেন মিরাজ। শেষ উইকেটে সৈয়দ খালেদ আহমেদকে নিয়ে ১২ দশমিক ১ ওভারে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। জেরসিস ওয়াদিয়ার বলে চার মেরে ১৪১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিরাজ। তার ১০৯ রানের ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। তার ইনিংসেই বাংলাদেশ ২৬৩ রানে অলআউট হয়।
মিরাজের ইনিংসের প্রশংসা করে রকিচিওলি বলেন, ‘উপমহাদেশের দলের বিপক্ষে খেলতে আমার ভালো লাগে। তারা স্পিন খুব ভালো খেলে। তাই শুরু থেকেই জানতাম কঠিন লড়াই হবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কেউ সহজে হার মানে না। শেষ দিকে ওরা যেভাবে লড়েছে, সেটি দারুণ ছিল। মিরাজের সেঞ্চারিটাও উপভোগ করেছি।’
এর আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। সাতটি চারে ৩৭ রান করার পর স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।
দিনের শেষ ভাগে অবশ্য ম্যাচে ভালোভাবেই ফিরেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের দুই ওপেনারকেই ফিরিয়ে দেন সফরকারী বোলাররা। টেস্ট দলে ফেরার আশা নিয়ে মাঠে নামা স্যাম কনস্টাস ১ রান করে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন। আর প্রতিভাবান বাঁহাতি ব্যাটার ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে শূন্য রানে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। ২০০৮ সালের পর দেশটিতে এটি তাদের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।
এর আগে চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে যান পেসার নাহিদ রানা, যা বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। তবে পায়ের পেশির চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন লিটন দাস।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে ১৩ আগস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ২ উইকেটে ৫১। মিরাজের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের ২৬৩ রানের জবাবে এখনও পিছিয়ে ২১২ রানে।

