ঢাকা১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের টাকা আটকে আছে আইসিবিতে

admin
ডিসেম্বর ৯, ২০২৫ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেক্স :

০৯ ডিসেম্বর ২০২৫,

রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে (আইসিবি) রক্ষিত ২২ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত সুদসহ ফেরত চেয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। টাকা পেতে জটিলতার কারণে এখন অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকটি। দীর্ঘদিন চেষ্টার পরও আমানত তোলা সম্ভব না হওয়ায় ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম ও স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধে চাপে পড়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

জানা গেছে, আইসিবিতে আটকে থাকা ২২ কোটি টাকার আমানত দ্রুত উত্তোলন সম্ভব না হলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নিয়মিত তহবিল ব্যবস্থাপনা আরও চাপে পড়বে। ব্যাংকের প্রধান তহবিলের উৎস বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স ঋণ, তাই এ ধরনের বিলম্ব প্রবাসী শ্রমিকদের ঋণসেবা পরিচালনা, দায় পরিশোধ এবং ব্যাংকের নিয়মিত কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যাংকটি তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহায়তা চেয়েছে, যাতে আইসিবিতে রক্ষিত আমানত দ্রুত সুদসহ ফেরত পাওয়া যায় এবং আর্থিক প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে।

ব্যাংকটির স্বল্পমেয়াদি দায়, বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স ঋণের সুদ, কর প্রদান ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে

নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মেয়াদি আমানত রাখা হয়। এগুলোর মেয়াদ শেষে অর্থ তুলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক তার দায়গুলো পরিশোধ করে থাকে।

ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঋণ বিতরণের পুরো কাঠামোই নির্ভরশীল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত প্রি-ফাইন্যান্স তহবিলের ওপর। ফলে মেয়াদি আমানত সময়মতো উত্তোলন করতে না পারলে ব্যাংকটির আর্থিক প্রবাহে সরাসরি চাপ পড়ে। যার প্রভাব পড়ে চলমান কার্যক্রম ও স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধে।

জানা গেছে, আইসিবির প্রধান কার্যালয় ও লোকাল অফিসে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ১৮ জুলাই ২০২৩ পর্যন্ত ৩০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত রেখেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বারবার পত্র দেওয়ার পরও আমানত সম্পূর্ণ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। আইসিবি সর্বশেষ মাত্র ৮ কোটি টাকা পরিশোধ করে। বাকি ২২ কোটি টাকা এখনও রয়ে গেছে।

এর মধ্যে- আইসিবি প্রধান কার্যালয়ের এফডিআরনং ১২২৫৩/১/২১৩২, বর্তমান স্থিতি ১৯ কোটি টাকা, প্রথম খোলা ১৫ নভেম্বর ২০২১, সর্বশেষ ম্যাচুরিটি ১৫ আগস্ট ২০২৫। আইসিবি লোকাল অফিসের এফডিআরনং ০০০৫৮১৯/এলওসি/৫১৩, বর্তমান স্থিতি ৩ কোটি টাকা, প্রথম খোলা ২৬ অক্টোবর ২০২১, সর্বশেষ ম্যাচুরিটি ২৬ অক্টোবর ২০২৫। এই হিসেবে মোট স্থিতি দাঁড়ায় ২২ কোটি টাকা।

মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত উত্তোলনের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ১২৯তম সভায় উপস্থাপন করা হয়। পর্ষদ সেখানে নির্দেশনা দেয়- পরবর্তী ম্যাচুরিটিতে আইসিবিতে রক্ষিত ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত সুদসহ উত্তোলনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে পত্র পাঠাত হবে এবং এর অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর পাঠাতে হবে। পর্ষদের নির্দেশ অনুসারে আইসিবিকে একাধিক পত্র পাঠানো হলেও প্রত্যাশিত টাকা পাওয়া হয়নি। এতে ব্যাংকের কার্যক্রমে চাপ আরও বেড়েছে।

বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স ঋণের সুদ, নিয়মিত কর প্রদান এবং অন্যান্য ব্যয় পরিচালনায় নিয়মিত অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু আইসিবিতে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ আমানত সময়মতো উত্তোলন করতে না পারায় ব্যাংকের অর্থপরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চানু গোপাল ঘোষ তাঁর স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করেছেন, স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধ এবং সার্বিক কার্যক্রম সচল রাখতে আইসিবিতে রক্ষিত ২২ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত সুদসহ দ্রুত ফেরত পাওয়া প্রয়োজন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।