হোসেন তৌফিক ইমাম, যিনি এইচ.টি. ইমাম নামেই অধিক পরিচিত, বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালের প্রারম্ভে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) কর্মকর্তা হিসেবে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদটিতে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই স্বাধীনতার সংগ্রামে সম্পৃক্ত হন এই দূরদর্শী আমলা। ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হওয়ার পর ১৬ জুলাই তাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের গুরুদায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়। প্রবাসী সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুবিন্যস্ত রাখা এবং যুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন দপ্তরের কাজের আন্ত-সমন্বয় সাধনে তার কৌশলগত দক্ষতা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
১৬ ডিসেম্বর অর্জিত বিজয়ের পরও তার এই গুরুদায়িত্ব পালনের ব্যাপ্তি কমেনি। মুজিবনগর সরকার ২২ ডিসেম্বর ঢাকা পৌঁছানোর পূর্ববর্তী সেই অস্থিতিশীল ও ট্রানজিশনাল আটটি দিন তিনি সফলভাবে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশে রূপান্তরের সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ১৬ জুলাই ১৯৭১ থেকে ২৭ আগস্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত—টানা ৪ বছর ৪২ দিন—প্রথম ক্যাবিনেট সচিবের আসনে অধিষ্ঠিত থেকে রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি মজবুত করতে ভূমিকা রাখেন তিনি।
পরবর্তী জীবনেও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে তার ভূমিকা অব্যাহত ছিল।
২০০৯ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারে তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদায় জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব সামলেছেন। পাশাপাশি একজন দক্ষ লেখক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতাকে গ্রন্থবদ্ধ করেছেন; তার রচিত ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১’ গ্রন্থটি যুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের নীতি ও অন্তর্দৃষ্টি বোঝার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রামাণ্য ইতিহাস। ২০২১ সালের ৪ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন এই প্রবীণ প্রশাসক।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

