বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খল অভিনেতা ডন হককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে, আজ সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে আনা হয়। এসময় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এদিকে ডন জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং পুনরায় পলাতক হতে পারেন- এমন আশঙ্কায় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
এতে বলা হয়, ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তার জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে তাকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেছে সিআইডি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন গত বছর। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।
মামলায় আসামিরা হলেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
সালমান শাহ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দেন মোহর’ ও ‘তোমাকে চাই’। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় ‘বিক্ষোভ’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ এবং ‘বিচার হবে’। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় ‘জীবন সংসার’, ‘মহামিলন’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ ও ‘এই ঘর এই সংসার’ প্রভৃতি।

