২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তটি ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক ছিল না বলে স্বীকার করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএফএবি জানায়, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রটোকল অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য ছিল না।
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ওই কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় ছিল আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জে বক্সের কাছে পড়ে যান এম্বোলো। ম্যাচের রেফারি জোয়াও পিনেইরো প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন।
কিন্তু পরে ভিএআরের পরামর্শে রেফারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ভিএআর জানায়, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। এরপর পিনেইরো এম্বোলোকে অভিনয়ের অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখান। সেটিই ছিল সুইস ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, ফলে তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ড আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
তবে আইএফএবি এখন স্পষ্ট করেছে, এমন পরিস্থিতিতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো হলুদ কার্ড যদি দ্বিতীয় হলুদ না হয়, তাহলে ভিএআর কেবল ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার জন্যই হস্তক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু কোনো ফাউল আদৌ হয়েছে কি না বা হলুদ কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য ভিএআর ব্যবহার করা যায় না।
আইএফএবির সার্কুলারে বলা হয়, ‘যে হলুদ কার্ড দ্বিতীয় হলুদ নয়, সেটি কেবল অপরাধ করা খেলোয়াড়কে শনাক্ত করার জন্য পর্যালোচনা করা যেতে পারে। অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য নয়।’
তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ভুল পরিচয় (মিসটেকেন আইডেন্টিটি) সংক্রান্ত নিয়ম ব্যবহার করে অভিনয়ের ঘটনা সামাল দেওয়ার যে পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। বিষয়টি এখন ভিএআর প্রটোকলের বিস্তৃত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে বিবেচনাধীন রয়েছে। সেই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা হবে না।
ম্যাচের পরই সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তার মতে, এম্বোলোর লাল কার্ডই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ইয়াকিন বলেছিলেন, ‘আজ এই সিদ্ধান্তই আমাদের ম্যাচটা নষ্ট করে দিয়েছে। সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু এভাবে হারাটা খুবই কষ্টের।’
যদিও ওই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা, শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপের ট্রফি হাতছাড়া করতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

