লাইফস্টাইল ডেস্ক
৯ জুলাই ২০২৬
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চুল পেকে যাওয়া স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে বর্তমানে জিনগত কারণ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দূষণ, ধূমপান, অপুষ্টি ও জীবনযাপনের নানা পরিবর্তনের কারণে অনেকেরই কম বয়সে চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার চুল পেকে গেলে শুধু তেল বা ঘরোয়া উপায়ে তার প্রাকৃতিক রং পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে আয়ুর্বেদে এমন কিছু ভেষজ তেল ও প্রাকৃতিক উপাদানের কথা বলা হয়েছে, যা মাথার ত্বককে পুষ্টি জোগাতে, চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং অকালপক্বতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
আমলকি ও নারকেল তেল
চুলের যত্নে আমলকি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, পলিফেনল ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। খাঁটি নারকেল তেলের সঙ্গে আমলকি মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হতে পারে এবং চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।‘ডার্মাটোলজিক থেরাপি’ জার্নালে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, অকালপক্বতা রোধে ভেষজ উপাদানের সম্ভাবনা থাকলেও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
কারিপাতা ও তিলের তেল
কারিপাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যামিনো অ্যাসিড, বিটা-ক্যারোটিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। আয়ুর্বেদে তিলের তেলও মাথার ত্বকের পুষ্টির জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারিপাতা তিলের তেলে ফুটিয়ে সেই তেল ব্যবহার করলে মাথার ত্বক আর্দ্র রাখতে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
কেশুত ও নারকেল তেল
আয়ুর্বেদে কেশুতকে চুলের পরিচর্যায় অন্যতম উপকারী ভেষজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি মাথার ত্বকের পরিচর্যায় সহায়ক এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়। কেশুতের রস বা গুঁড়ো নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে একবার মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে চুলের যত্নে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
জবা ফুল ও কাঠবাদামের তেল
জবা ফুলে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে পরিবেশগত ক্ষতির প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, কাঠবাদামের তেলে রয়েছে ভিটামিন ই ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শুষ্ক ও রুক্ষ চুলকে নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। এই দুটি উপাদানের মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখা সহজ হতে পারে।
কালো তিল ও ক্যাস্টর অয়েল
আয়ুর্বেদে কালো তিলকে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে কপার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্কসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। ক্যাস্টর অয়েলে থাকা রাইসিনোলিক অ্যাসিড মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক। এই দুটি উপাদানের মিশ্রণ চুল পড়া কমাতে এবং চুলকে আরও ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি সাদা চুলকে আবার কালো করে দেয় এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

