জোরপূর্বক শ্রমের (ফোর্সড লেবার) মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মঙ্গলবার এ প্রস্তাব প্রকাশ করে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের বরাত দিয়ে বলা হয়, তদন্তে দেখা গেছে যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটির শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, ইকুয়েডর, এল সালভাদর এবং গুয়াতেমালাসহ কয়েকটি অর্থনীতি থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের একটি অসম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে।’
তবে প্রস্তাবিত শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বিরল খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক এবং বিকল্প পদক্ষেপ নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানিরও আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক ব্যবস্থার একটি অংশ বাতিল হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।

