অনলাইন ডেস্ক
২০ এপ্রিল ২০২৬
থাইরয়েড গ্রন্থি একটি নালিবিহীন গ্রন্থি। প্রজাপতির মতো দেখতে এই গ্রন্থিটির অবস্থান আমাদের গলার ঠিক সামনে ও নিচের দিকে। এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন (টি-৪) ও ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (টি-৩) নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসৃত হয়। থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য প্রধানত প্রয়োজন আয়োডিন। খাদ্যের আয়োডিন রক্তের মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থিতে পৌঁছায়। সেখানে একটি জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে থাইরয়েড হরমোন তৈরি হয়। পরে এই হরমোন রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছায় এবং তার কাজ সম্পন্ন করে।
থাইরয়েড গ্রন্থির এই হরমোন তৈরির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড-উদ্দীপক হরমোন (টিএসএইচ)। আমাদের রক্তে যখন থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে যায়, তখন পিটুইটারি গ্রন্থি বেশি বেশি টিএসএইচ নিঃসরণ করে থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। ফলে রক্তে টিএসএইচ-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। এ অবস্থাকে বলে থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতা।
থাইরয়েড হরমোনের প্রধান কাজসমূহ হলো- থাইরয়েড হরমোন আমাদের দেহের বিপাকক্রিয়ার নীরব নিয়ন্ত্রক। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, মাংসপেশি ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোনো কারণে থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন উৎপাদন কমে গেলে এই রোগকে হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি) বলা হয়। পুরুষের তুলনায় নারীদের এই রোগ বেশি হয়।
লক্ষণ : অতিরিক্ত ক্লান্তি, অবসাদ ও দুর্বলতা; সব সময় ঘুমঘুম ভাব ও শীত শীত অনুভব; ক্ষুধামন্দা থাকা সত্ত্বেও ওজন বৃদ্ধি পাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য; মুখ ও চোখের চারপাশে ফোলা ভাব। প্রজননক্ষম নারীর ক্ষেত্রে এই হরমোন কমে গেলে মাসিকের সমস্যা, অনিয়মিত ও অতিরিক্ত মাসিক হতে পারে এবং সন্তান ধারণে অক্ষমতা দেখা দিতে পারে। নবজাতক ও শিশুর ক্ষেত্রে উচ্চতা বৃদ্ধিতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া মানসিক বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে। কারণ গর্ভাবস্থায় মায়ের এই হরমোনের স্বল্পতা গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের গঠনে প্রভাব ফেলে। কাজকর্মে ধীরগতি, হতাশা, দুঃখবোধ, উদাসীনতা, মনোযোগ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত, থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন করা প্রয়োজন।
করণীয় : আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া; ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, দস্তা, তামা, লৌহ ও সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া; ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম করা; মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম (৭-৮ ঘণ্টা) নিশ্চিত করা; নিয়মিত যোগব্যায়াম বা ধ্যান করা। কিছু খাবার অতিরিক্ত খেলে থাইরয়েড গ্রন্থির কাজে বাধা দেয়, যেমন- ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, সয়াবিন বা সোয়া প্রোটিন ইত্যাদি। তবে রান্না করে খেলে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমে যায়। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত।

