পৃথিবীর প্রায় সকল স্থানেই ক্ষমতা, পজিশন, অর্থের কারণে রাজনীতি চলছে এবং চলতেই থাকবে। এমন অনেক ব্যক্তিই রয়েছেন যারা এই সকল জিনিসের জন্য অনেক কিছুই করতে পারেন। পলিটিক্স খাটিয়ে অন্যকে নিচে নামানো, আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার মতো কাজও করেন অনেকেই। বাস্তব জীবনে এই ধরনের মানুষের দেখা মেলে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে অর্থাৎ অফিসে। অফিসে এমন অনেক সহকর্মী পাবেন যারা বসের কাছে ভালো হতে গিয়ে অযৌক্তিকভাবে অন্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করতে থাকেন। আপনার ছোট্ট একটা ত্রুটি পরো অফিসকে জানিয়ে দেয়। এতে তিনি নিজেকে একপ্রকার মেরুদণ্ডহীন প্রাণী হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তবে অফিসে পলিটিক্সের শিকার হয়ে অনেকেই নিজের ক্যারিয়ারের জন্য অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে অনেকেই চাকরি থেকে নিজেই চলে যান। কিন্তু এটিই কি সমাধান? মোটেই নয়, কারণ সব স্থানেই কম বেশি পলিটিক্সের শিকার হতে হয়। তাই সব চাইতে ভালো সমাধান হচ্ছে- এই ব্যাপারগুলো সঠিকভাবে মোকাবেলা করার সাহস সঞ্চয় করা।
আপনি যদি অফিস পলিটিক্সের শিকার হয়ে থাকেন তাহলে করতে পারেন এই কাজগুলো-
মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন
প্রথমেই ব্যাপারটি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন, যে এমনটি হতেই পারে। যতক্ষণ না আপনি মেনে নিতে পারবেন এর প্রভাব আপনার কাজের ওপরে পড়তে থাকবে এবং পারফর্মেন্স খারাপ হতে থাকবে। আপনি যেখানেই যান না কেন এই ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই বিষয়টি মেনে নিন এবং পরবর্তীতে কি করতে পারেন তা নিয়ে ভাবুন।
যে কোনো একদিকে পড়বেন না
কেউ আপনার বিরুদ্ধে কথা বলছে কেউ আপনার পক্ষে কথা বলছে অর্থাৎ আপনার সামনেই অফিস দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। আপনি প্রথমেই আপনার পক্ষে কথা বলা কলিগকে খুব বেশি বিশ্বাস করে ফেলবেন না। এটিও এক ধরনের ফাঁদ হতে পারে। নিজের বুদ্ধিমতো চলার চেষ্টা করুন। আর যদি অন্য কারো সঙ্গে পলিটিক্স হতে দেখেন তাহলে নিজে যে কোনো এক পক্ষে পড়ে যাবেন না। নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করুন।
ব্যক্তিগত ভাবে নিয়ে নেবেন না
অফিস পলিটিক্সকে অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে নিয়ে রেগে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেন, এই কাজটি করবেন না। এটা শুধুই কর্মজীবনের অংশ আপনার ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রভাব পড়তে দেবেন না। অফিস পলিটিক্স অফিসেই সীমাবদ্ধ রাখুন।
রেগে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নয়
অনেকেই পলিটিক্সের শিকার হয়ে রেগে যান এবং চাকরিতে রিজাইন করা বা রাগান্বিত হয়ে উল্টোপাল্টা কাজ করে ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করেন। এই কাজগুলো মোটেও করতে যাবেন না।
মূল ব্যক্তিটিকে চিনে রাখুন
নিজের বুদ্ধি খাটান, বোঝার চেষ্টা করুন সকল পলিটিক্সের পেছনে কার মাথা কাজ করছে। সেই মূল ব্যক্তিটিকে চিনে রাখুন। তবে তার ক্ষতি করার কথা মাথায় আনবেন না। চুপচাপ তার কাছ থেকে সরে পড়ুন-তা তিনি আপনার যত ভালোই কলিগ হোন না কেন।
নিজেও পলিটিক্স খাটাবেন না
নিজে পলিটিক্সের শিকার হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উল্টো পলিটিক্স খাটাতে যাবেন না, বা আপনি শিকার হয়েছেন বলে একই কাজ অন্যের সঙ্গে করতে যাবেন না। একটু ধৈর্য ধরুন, যিনি খারাপ তার মুখোশ কোনো না কোনো সময় ঠিকই সামনে চলে আসবে।

