সত্য সমাচার ডেস্ক:
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৃষ্টি শুধু দেখার অঙ্গ নয়; পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও সম্পর্ক গড়ে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম। অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ততায় আমরা চোখের যত্নের কথা সবচেয়ে কম ভাবি। যতক্ষণ না নজর ঝাপসা হয় বা কাছের কিছু পড়তে হাত দূরে সরে যায়, ততক্ষণ চোখের গুরুত্ব যেন আমাদের চোখেই পড়ে না। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের সেন্টার ফর আই রিসার্চের ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক লরেন আইটনের মতে, অন্ধত্ব এক ভয়ংকর প্রতিবন্ধকতা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় নব্বই শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হ্রাস প্রতিরোধযোগ্য বা চিকিৎসাযোগ্য। অন্য অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার মতোই চোখ ভালো রাখতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সক্রিয় জীবনধারা এবং নিয়মিত পরীক্ষা।
জীবনের মূলত দুই সময়ে চোখের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। প্রথমটি হলো, শৈশব ও কৈশোর। বর্তমানে সারা বিশ্বে শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া বা নিকট দৃষ্টি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং প্রতি তিনজন শিশুর একজন এখন এই সমস্যায় ভুগছে। দ্বিতীয়টি হলো, মধ্যবয়স বা চল্লিশের মাঝামাঝি সময়। এ বয়সে অনেকে টের পান কাছের লেখা পড়তে হাত বাড়াতে হচ্ছে। একে বলা হয় প্রেসবায়োপিয়া, যা বয়সজনিত এবং পুরোপুরি অনিবার্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স শক্ত হয়ে যাওয়ায় কাছের জিনিসে ফোকাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর একমাত্র সমাধান চশমা। তবে চশমা পরলে চোখ দুর্বল হয়ে যায়- এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে যাওয়া ছানিও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব।
এদিকে গ্লুকোমা এবং বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগগুলো নীরবে দৃষ্টি কেড়ে নেয়। এগুলোর শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখা না দিলেও ধীরে ধীরে স্থায়ী দৃষ্টিহানি ঘটে। গ্লুকোমা অপটিক নার্ভ এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশন রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশে প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে বড় অস্ত্র হলো আগাম শনাক্তকরণ, কারণ দেরিতে ধরা পড়লে হারানো দৃষ্টি আর ফেরানো যায় না।
সুস্থ চোখের জন্য বিশেষজ্ঞরা তিনটি ‘ও’ পালনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমটি হলো, অফ স্ক্রিন বা অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানো। দ্বিতীয়টি হলো, আউটডোর বা নিয়মিত বাইরে সময় কাটানো। তৃতীয়টি হলো, অপটোমেটরিস্টের কাছে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো।
সূর্যের আলো চোখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে দারুণ সাহায্য করে। ধারণা করা হয়, সূর্যালোক চোখে ডোপামিন নিঃসরণে ভূমিকা রাখে, যা চোখের সুস্থতার জন্য জরুরি। বাইরে থাকলে চোখ দূরের জিনিসে ফোকাস করার সুযোগ পায়, যা ঘরের ভেতরে স্ক্রিনের সামনে সম্ভব হয় না। তাই প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা বাইরে সময় কাটানো শিশুদের মায়োপিয়া কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। বয়স ৬০ বছরের কম হলে প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর চোখ পরীক্ষা যথেষ্ট হলেও ষাট পেরোলে এই ব্যবধান কমানো জরুরি।
অনেকে মনে করেন, স্ক্রিনের দিকে তাকালেই চোখ নষ্ট হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ক্রিন নিজে থেকে চোখের সবচেয়ে বড় শত্রু, এমন জোরালো প্রমাণ নেই। মূলত স্ক্রিন আমাদের চোখের জন্য উপকারী নানা কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, বিশেষ করে শিশুদের। তাই স্ক্রিন টাইম কমিয়ে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, সচেতনতা ও সঠিক জীবনযাত্রাই পারে আপনার দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘকাল সতেজ ও সুরক্ষিত রাখতে।

