ঢাকা৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলের অন্দরমহলে ‘কালো বিড়াল’: ডিজিকে রক্ষার সাফাই নাকি হাজার কোটি টাকার নতুন দুর্নীতির ব্লু-প্রিন্ট?

admin
আগস্ট ৩, ২০২৬ ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান ভয়াবহ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংকট, ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনা, সময়সূচি বিপর্যয় এবং শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির পেছনে আসল সত্য কী?

সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনটি ওপর ওপর রেলের উন্নয়ন ও কারিগরি সংকটের করুণ চিত্র মনে হলেও, গভীর বিশ্লেষণে উঠে আসছে এক আতঙ্কের খবর। এই আয়োজন মূলত একদিকে বর্তমান মহাপরিচালককে (ডিজি) প্রশাসনিকভাবে ‘সুরক্ষা’ দেওয়ার চতুর চেষ্টা এবং অন্যদিকে নেপথ্যে থাকা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের হাজার কোটি টাকার কেনাকাটার পথ সুগম করার সুসংগঠিত ব্লু-প্রিন্ট বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে ও প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, পুরো আয়োজনটির পেছনে একটি চীনা (চাইনিজ) কোম্পানির কাছ থেকে তড়িঘড়ি করে লোকোমোটিভ ক্রয়ের গোপন সমঝোতা এবং রেলে বিগত ১৭ বছর ধরে জেঁকে বসা একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেটের বিশাল স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে।

১. ‘পোষ্য কোটা’র আড়ালে ডিজি-র দুর্নীতির সাফাই :

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক কর্মকর্তাদের ওপর ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে বর্তমান মহাপরিচালক আফজাল হোসেনকে একজন ‘দক্ষ ও অভিজ্ঞ’ কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ ও ‘নোংরা প্রতিযোগিতা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের একের পর এক চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হলেও, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোকে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিকে উল্টো ‘কর্মকর্তাদের হয়রানি’ হিসেবে তুলে ধরে মূলত ডিজি-র পদ ও ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখার জন্য একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ঢাল তৈরি করা হয়েছে।

২. ৭০টি ইঞ্জিন প্রকল্প বাতিল ও প্রশাসনিক দায় এড়ানো :

পূর্বাঞ্চলের মিটারগেজ লাইনে প্রতিদিন ৮৫টির চাহিদার বিপরীতে সচল পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০-৭২টি ইঞ্জিন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটে সাবেক কর্মকর্তাদের অজুহাত দেখিয়ে বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।

৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ক্রয় প্রকল্প বাতিল হওয়ায় সরকারের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। প্রতি ডলার ৮২ টাকা মূল্যের সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক দর ব্যবহারের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে। ডিজি কার্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অদূরদর্শিতা ছাড়া এত বড় প্রকল্প বাতিল হওয়া সম্ভব ছিল না।

৩. ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়:

কারিগরি জালিয়াতি ও এক্সেল লোড বিতর্ক
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) অর্থায়নে ৩০টি নতুন মিটারগেজ ইঞ্জিন সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় ‘এক্সেল লোড’ (Axle Load) এবং স্পেসিফিকেশন পরিবর্তন নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। টঙ্গী-আখাউড়া কিংবা চট্টগ্রাম-দোহাজারীর মতো পুরোনো রেললাইনে ১৫ টন এক্সেল লোড বহনের অবকাঠামোগত সক্ষমতা আছে কি না—তা অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্ন।
অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে এবং দরপত্রের শর্ত নিজেদের অনুকূলে আনতে কারিগরি স্পেসিফিকেশন পরিবর্তন করা হয়েছে। জেনেশুনে ত্রুটিপূর্ণ কারিগরি শর্তে চুক্তি সই হলে তা ভবিষ্যতে দেশের রেল অবকাঠামোকে চিরতরে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

৪. নেপথ্যে ‘ছায়া মন্ত্রী’ আফসার বিশ্বাস সিন্ডিকেটের রাজত্ব :

রেল দপ্তরের বর্তমান অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক স্থবিরতার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আওয়ামী নেতা ও সাবেক আওয়ামী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বাল্যবন্ধু আফসার বিশ্বাসের একক আধিপত্য। বিগত ১৭ বছর ধরে রেলের ‘অঘোষিত ছায়া মন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত আফসার বিশ্বাস ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে পুরো দপ্তর নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে।

কর্মকর্তাদের জিম্মি দশা: পছন্দের ও ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের মূল মূল পদে বসিয়ে আফসার বিশ্বাস পুরো রেল দপ্তরকে জিম্মি করে রেখেছেন। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে বা অন্যায় দাবিতে সায় না দিলে কর্মকর্তাদের এক রাতেই দুদকের মামলার আসামি বা বদলি করার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।

এডিবির প্রকল্পে কোটি ডলারের ব্লু-প্রিন্ট: ১০০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের পরিকল্পনা ও এডিবির ৩০টি লোকোমোটিভ প্রকল্প থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, হুন্দাই রোটেম কোরিয়াকে ভয়ভীতি ও দুদকের মাধ্যমে কোণঠাসা করে, তাদের লোকাল এজেন্টকে জিম্মি করে এবং কারিগরি স্পেসিফিকেশন পরিবর্তন করে আফসারের পছন্দসই বিদেশী কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।

৫. চাইনিজ কোম্পানির সঙ্গে গোপন সমঝোতা ও সংবাদ সম্মেলনের আসল উদ্দেশ্য :

সংবাদ সম্মেলনটির টাইমিং এবং ভাষা পর্যবেক্ষণ করে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, মূলত একটি চীনা (চাইনিজ) কোম্পানির কাছ থেকে তড়িঘড়ি করে লোকোমোটিভ ক্রয়ের পথ পরিষ্কার করতেই এই পুরো নাটক সাজানো হয়েছে। ওই চীনা কোম্পানির সাথে ইতিমধ্যেই নেপথ্যে বিপুল অংকের গোপন অর্থ সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে।
জনস্বার্থ ও ইঞ্জিন সংকটের দোহাই দিয়ে এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে খুব দ্রুত ওই নির্দিষ্ট চাইনিজ কোম্পানির কাছ থেকে নিম্নমানের বা শর্তহীন ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়াটি অনুমোদন করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

৬. নিয়োগ বিধিমালা ও চরম জনবল সংকট :

‘নিয়োগ বিধিমালা-২০২০’ সংশোধনে দীর্ঘ ৫ বছরের বিলম্ব এবং অনভিজ্ঞ ও অযোগ্য জনবল নিয়োগের ফলে রেলের ৬০% নতুন কর্মী চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। একটি বিশেষায়িত কারিগরি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য জনবল ধরে রাখতে না পারা এবং অভিজ্ঞদের বঞ্চিত করে রেলকে অচল করে রাখার দায় ডিজি ও তার প্রশাসনিক সিন্ডিকেট কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও দাবি
সংবাদ সম্মেলনটি রেলের সংকট নিরসনের জন্য নয়, বরং বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেনকে দুর্নীতির দায় থেকে বাঁচানো, আফসার বিশ্বাসের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা এবং নির্দিষ্ট একটি চাইনিজ কোম্পানির কাছ থেকে দ্রুত ইঞ্জিন কিনে হাজার কোটি টাকা লোপাট করার এক বহুমুখী চক্রান্ত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জুলাই বিপ্লবে শত শত শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশে কোনো কালো বিড়াল বা দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের কাছে রেলকে জিম্মি থাকতে দেওয়া যায় না।

দেশবাসীর প্রত্যাশা:

উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত: ১০০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের প্রক্রিয়া, চীনা কোম্পানির সাথে গোপন সমঝোতা এবং আফসার বিশ্বাস ও রেলের সিন্ডিকেট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

স্বচ্ছ দরপত্র: এডিবির ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ে এক্সেল লোড ও কারিগরি শর্ত সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রেখে উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্রয় সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযান:

স্বৈরাচারের দোসর, মামলার আসামি এবং ব্ল্যাকমেইলারদের প্রভাব থেকে রেলদপ্তরকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে যোগ্য ও সততার ভাবমূর্তিসম্পন্ন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে আনতে হবে।

কালো বিড়ালের থাবা থেকে মুক্ত করে রেলকে জনগণের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। সবার আগে বাংলাদেশ—এই নীতিতে কোনো দুর্নীতির সাথে আপস নয়।

পাল্টা বক্তব্য:

” আমরা ব্যক্তির পক্ষে নই, রেলের পক্ষে” বলে জানিয়েছেন
মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, সভাপতি, বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান মহাপরিচালককে (ডিজি) ‘সুরক্ষা’ দেওয়া। আমি এই ব্যাখ্যার সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি।

আমাদের সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য প্রকাশ্য নথি। সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে কোনো ব্যক্তি তদন্তের ঊর্ধ্বে, কিংবা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা যাবে না। বরং আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—রেলওয়ের যেকোনো কর্মকর্তা, বর্তমান বা সাবেক, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনসম্মত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হতে হবে; একই সঙ্গে ভিত্তিহীন অভিযোগ বা অপপ্রচারের মাধ্যমেও যেন কেউ অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

আমাদের সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল রেলের ভয়াবহ লোকোমোটিভ সংকট, ৭০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ প্রকল্প বাতিল, এডিবির অর্থায়নে ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ ক্রয় প্রক্রিয়া, এক্সেল লোডসংক্রান্ত কারিগরি বিতর্ক, নিয়োগ বিধিমালার দীর্ঘসূত্রিতা, জনবল সংকট, ঘন ঘন ইঞ্জিন বিকল, ট্রেন দুর্ঘটনা এবং রেলের সর্বোচ্চ পদকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অস্থিরতা। এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের রেলসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আমরা বর্তমান মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগকে এড়িয়ে গেছি। বাস্তবে আমরা কোনো অভিযোগকে অস্বীকার করিনি; আমরা কেবল বলেছি—অভিযোগ থাকলে তা সরকারি নথি, তথ্য-উপাত্ত এবং আইনের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রশাসনিক লবিংকে তদন্তের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

বিশেষ করে ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা যে বক্তব্য দিয়েছি, তা ব্যক্তিগত মতামত নয়; প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) শাখার কারিগরি মূল্যায়ন, এডিবির পর্যবেক্ষণ, যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের সরকারি নথির ভিত্তিতে উপস্থাপন করেছি। আমরা কোথাও বলিনি যে এক্সেল লোড প্রশ্ন তোলা যাবে না; বরং বলেছি—এটি একটি কারিগরি বিষয় এবং তা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

একইভাবে ৭০টি লোকোমোটিভ প্রকল্প বাতিলের ক্ষেত্রে আমরা সাবেক বা বর্তমান কাউকে দায়মুক্তি দিইনি। বরং প্রকাশ্যে দাবি জানিয়েছি—প্রকল্পটি কেন বাতিল হলো, কে বা কারা দায়িত্বে ছিল, কী কারণে বিলম্ব বা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হলো—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায় নির্ধারণ করতে হবে।
আমাদের বক্তব্যে আরও উল্লেখ আছে যে, রেলওয়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যদি আমাদের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করা হতো, তাহলে এমন দাবি আমরা তুলতাম না।

আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি জাতীয় সম্পদ। এই প্রতিষ্ঠানের সংকট, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, জনবল সমস্যা, প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক কোন্দল—সবকিছুরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। আমরা কোনো ব্যক্তি, পদ বা গোষ্ঠীর পক্ষে নয়; আমরা রেলওয়ের পক্ষে।
সুতরাং সংবাদ সম্মেলনকে ‘ডিজিকে সুরক্ষা দেওয়ার আয়োজন’ হিসেবে চিত্রিত করার পরিবর্তে, সেখানে উত্থাপিত তথ্য, পরিসংখ্যান, সরকারি নথি এবং তদন্তের দাবিগুলো বিশ্লেষণ করাই অধিকতর সাংবাদিকসুলভ ও জনস্বার্থসম্মত হতো।

আবারও বলছি—বর্তমান বা সাবেক, যেই হোন না কেন, অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক; আর প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করাও সমানভাবে অনুচিত। সত্য উদ্ঘাটনের একমাত্র পথ হলো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্ত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।