সত্য সমাচার ডিজিটাল: শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের তথ্য জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছি। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসসিনক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রধান করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধানে, ইতোমধ্যেই আপনারা হয়তো জানেন, যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকার সাহেব, তিনিও যখন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেন, তখন বলা থাকে, যখন প্রয়োজন হবে কোনো কারণে স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে তখন ডেপুটি স্পিকার, স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’
প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল।’
প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে।

