-“শেষ নিশ্বাসের আগে “—-
নিস্তব্ধ হৃদয়ের গোপন মন্দিরে
কে যেন অদৃশ্য বাঁশি বাজায়—
মানুষের মন ও বুদ্ধি
তারই সুরে নীরবে নাচে,
তবু মানুষ অহংকারে বলে,
“আমিই আমার জীবনের অধিপতি।”
কিন্তু কে জ্বালিয়ে দেয়
মস্তিষ্কের অন্ধকার ঘরে চিন্তার প্রদীপ?
কে এক হৃদয়ে করুণা রাখে,
আর অন্য হৃদয়ে
লোভের বিষাক্ত ছায়া?
সাঁঝবেলায়,
যখন ক্লান্ত পাখিরা ফিরে আসে
রক্তিম আকাশের পথ বেয়ে,
আমি বাতাসকে প্রশ্ন করি—
“হে অনন্তের পথিক,
মানুষের পাশে কি সত্যিই
কোনো অদৃশ্য আত্মা হেঁটে চলে?”
বাতাস উত্তর দেয় না—
শুধু শুকনো পাতারা ঝরে পড়ে।
হয়তো শুভ আত্মা
অপরের দুঃখে জন্ম নেওয়া অশ্রুবিন্দু,
আর অশুভ আত্মা
মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা
স্বার্থের নীরব আগুন।
প্রতিদিন জীবন
তার রহস্যের পাপড়ি খুলে দেয়—
অচেনা মানুষের হঠাৎ আগমন,
অকারণ বিদায়,
অসমাপ্ত গান,
ক্ষণিকের স্পর্শ,
আর তারপর চির অদৃশ্য হয়ে যাওয়া।
সময়ের নদীতে
সবই যেন ভাসমান নৌকা।
কিন্তু মাঝি কে?
কোন অদৃশ্য হাত
আমাদের ঘাটে ভিড়ায়
আবার দূরে সরিয়ে নেয়?
আর এই শ্বাস—
বুকের ভেতর নীরবে বসবাস করা
অদেখা পাখিটি—
প্রতিটি প্রভাতে
কোন আকাশ থেকে উড়ে আসে?
আমরা ঘুমিয়ে পড়ি অসহায়ভাবে,
তবু ভোর আবার
জীবনের প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়।
রাজাধিরাজও পারে না
একটি অতিরিক্ত নিশ্বাস কিনতে;
পণ্ডিতও পারে না
এর শেষ রহস্য ব্যাখ্যা করতে।
তারপর একদিন
শরীর ঝরে পড়ে
শরতের পাতার মতো—
নিঃশব্দে, ধূলির কোলে।
চোখ বন্ধ হয়।
গান থেমে যায়।
পথিক একা চলে যায়
অচেনা অনন্তের দিকে।
তখন কী থাকে?
না এই মাটির দেহ,
না পাথরে খোদাই করা নাম।
থেকে যায় শুধু ভালোবাসা—
ফুল ঝরে যাওয়ার পরও
যেমন সুগন্ধ বেঁচে থাকে।
থেকে যায় কিছু দয়া,
কিছু প্রার্থনা,
কিছু নীরব আলোর রেখা—
যা মানুষের হৃদয়ে
অমর হয়ে জ্বলতে থাকে।
আর নক্ষত্রের ওপারে,
সমস্ত নীরবতার শেষে,
কোনো এক চিরন্তন কবি
হয়তো গুনে রাখেন
আমাদের প্রতিটি ধার-করা নিশ্বাস।
——————————————-
সৈয়দ এল, আলী বাহরাম,
প্রাক্তন সদস্যঃ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস।
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ॥

