অনেকেই কাঁধে ব্যথাকে সাধারণ পেশির টান বা ক্লান্তির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ব্যথা কখনও কখনও ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ নামের জটিল সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ডায়াবেটিক শোল্ডারও বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁধের অস্থিসন্ধির চারপাশে একটি নরম কিন্তু মজবুত আবরণ থাকে, যাকে ক্যাপসুল বলা হয়। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে এই অংশে পরিবর্তন শুরু হয়। অতিরিক্ত শর্করা কোলাজেনের সঙ্গে মিশে টিস্যুকে শক্ত ও আঠালো করে তোলে। ফলে ধীরে ধীরে ক্যাপসুল মোটা হয়ে যায় এবং কাঁধের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমতে থাকে।
এর পাশাপাশি ওই অংশে প্রদাহ তৈরি হলে কাঁধে ব্যথা ও আড়ষ্টতা দেখা দেয়। হাত ওপরে তুলতে, পেছনে নিতে বা দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হয়। অনেক সময় চুল আঁচড়ানো, জামা শুকাতে দেওয়া কিংবা পোশাক পরার মতো সাধারণ কাজও কঠিন হয়ে পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা খুবই সাধারণ। মানবদেহের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে থাকা সাইনোভিয়াল ফ্লুইড নামের পিচ্ছিল তরল হাড়ের ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু এই তরল ঘন হয়ে গেলে অস্থিসন্ধির স্বাভাবিক কার্যকারিতা কমে যায় এবং নড়াচড়ার সময় ব্যথা অনুভূত হয়।
কাঁধে ব্যথা কমাতে কী করবেন?
১. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না। সাধারণত প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ব্যথার ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
২. দিনে ২ থেকে ৩ বার পাঁচ মিনিট করে আইস প্যাক দিয়ে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন।
৩. গরম সেঁক না দেওয়াই ভালো, এতে প্রদাহ বাড়তে পারে।
৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। বিশেষ করে এইচবিএ১সি-এর মাত্রা ৬.৫-এর নিচে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
৫. প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি নেওয়া যেতে পারে।
৬. তীব্র ব্যথার সময় ব্যায়াম না করাই ভালো, কারণ এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রোজেন শোল্ডারের ব্যথা কমতে সময় লাগে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে এবং নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

