শরীর তো কেবল একটি নীরব মঞ্চ,
ক্ষণিকের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা ছায়া—
তার নেই কোনো নিজস্ব সুর,
নেই কোনো চিরন্তন পরিচয়।
সে যে আসে—
অদৃশ্য, অথচ সর্বব্যাপী—
নিঃশব্দ পদচারণায় প্রাণের ভিতরে,
তখনই দেহ জেগে ওঠে,
অচল মাটিতে নামে স্পন্দনের উৎসব।
সে-ই তো প্রাণ—
সে-ই তো চেতনার অমৃতধারা।
তার স্পর্শে চোখে জ্বলে দৃষ্টি,
তার ইশারায় হৃদয় বাজায় অনন্ত বীণা।
মস্তিষ্ক কেবল দর্শক,
চুপচাপ দেখে তার অভিনয়—
ভাবনারা আসে যায়,
কিন্তু কর্তার আসন তার নয় কখনো।
যখন সে সরে যায়—
নিভে যায় সমস্ত আলোক,
দেহ তখন পড়ে থাকে
নিষ্প্রাণ এক পরিত্যক্ত যন্ত্রের মতো।
সে-ই করে সব কাজ—
নীরবে, অনাদি ছন্দে,
জন্ম-মৃত্যুর এই ক্ষণিক খেলায়
সে-ই একমাত্র অভিনেত্রী।
শরীর শুধু দেখে—
এক বিস্মিত দর্শকের মতো,
তার লীলা, তার অনন্ত গতি।
হে অদেখা সত্তা—
তোমারই ছোঁয়ায় আমি আছি,
তোমারই নীরব আদেশে
জীবনের সকল সঞ্চার।
শেষে যখন পর্দা নামবে—
থেমে যাবে সব কোলাহল,
তখনও তুমি থাকবে—
নিরবধি, নিরাকার, অমল।
কারণ—
সে-ই করে,
সে-ই সব।
——————
সৈয়দ এল, আলী বাহরাম
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক,
প্রাক্তন সদস্যঃ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ॥

