ঢাকা২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সার্জিক্যাল জন্ডিস ও এ রোগের চিকিৎসা

admin
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেক্স :
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫,

জন্ডিস হলো শরীরে বিলিরুবিন নামক পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে চোখ, ত্বক ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়ার একটি উপসর্গ। বিভিন্ন কারণে জন্ডিস হতে পারে। সাধারণত বেশিরভাগ জন্ডিসের রোগী ওষুধ ও সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস এমন হয়, যা কেবল অস্ত্রোপচার বা সার্জারির মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য। একেই বলা হয় সার্জিক্যাল জন্ডিস।

সার্জিক্যাল জন্ডিস সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে হয়ে থাকে। যেমনÑ পিত্তথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়ে তা পিত্তনালিতে আটকে গেলে পিত্ত নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি হয়। এ কারণে হতে পারে জন্ডিস। এ ছাড়া পিত্তনালির ক্যানসার, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, পিত্তনালির জন্মগত সংকোচন বা সংকীর্ণতা অথবা লিভার সংক্রমণজনিত কিছু পরজীবীর আক্রমণÑ এসবই এ জন্ডিসের সম্ভাব্য কারণ।

এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে : চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, শরীর চুলকানো, গাঢ় হলুদ বা বাদামি প্রস্রাব, ফ্যাকাশে বা সাদা রঙের মল, পেটের ডানদিকে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য এবং ওজন কমে যাওয়া।

রোগ নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রয়েছে রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, চৌম্বকীয় অনুনাদন পদ্ধতিতে পিত্ত ও অগ্ন্যাশয়ের নালির ছবি তোলা (এমআরসিপি), সিটি স্ক্যান বা প্রয়োজনে এন্ডোস্কপিক পদ্ধতিতে পিত্তনালি পরীক্ষা (ইআরসিপি), এবং টিউমারের সন্দেহ হলে বায়োপসি।

এই রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে যদি যথাসময়ে চিকিৎসা না করা হয়। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে যকৃতের কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া, রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) এবং এমনকি মৃত্যুও।

চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে রোগের প্রকৃত কারণের ওপর। উদাহরণস্বরূপ, পিত্তনালিতে পাথর থাকলে এন্ডোস্কপিক পদ্ধতিতে তা অপসারণ করা হয় অথবা ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গলব্লাডার সরিয়ে ফেলা হয়। যদি পিত্তনালির কোনো অংশ সংকুচিত বা বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে সেখানে স্টেন্ট বসানো হয় বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করা হয়। ক্যানসারের ক্ষেত্রে, অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের জন্য বিশেষ ধরনের অস্ত্রোপচার (হুইপল পদ্ধতি) করা হয়। যদি অস্ত্রোপচার সম্ভব না হয়, তাহলে স্টেন্ট বসিয়ে সাময়িক উপশম দেওয়া হয় এবং কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা চালানো হয়। সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। সবশেষে বলা যায়, সার্জিক্যাল জন্ডিস একটি গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা হলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। চোখ বা ত্বকে হলুদ ভাব দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত কোনো সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ যত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় হবে, ততই সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।