চলতি বছরের শুরুর দিকে মারা যান অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা। পরে ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনার এ মামলায় কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী।
আজ ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ইকরার জন্মদিন। বিশেষ এদিনে স্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাহের আলভী। স্মৃতিচারণ, বর্তমান জীবন সংগ্রামের কথা জানানোর পাশাপাশি স্ত্রীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
ইকরাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাহের আলভী বলেন, ‘শুভ জন্মদিন ইকরা। তুমি আবার প্রমাণ করে গেলে, একজন মৃত মানুষের ভ্যালু অনেকগুলো জীবিত মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তোমার অনুপস্থিতি আমাকে ভাবায়। রিযিককেও হয়তো ভাবায়। তুমি থাকলে হয়তো এই সময়টা কেক কেটে আমরা তিনজন খুব চিল করতাম।’
জন্মদিনে ইকরার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন জাহের আলভী। তার ভাষায়, ‘আজকে তোমার কাছে মাফ চাচ্ছি কিছু বিষয়ে। জন্মদিন উপলক্ষে পারলে মাফ করে দিও। তুমি নেই, আর আসবেও না, তবুও আমি অক্সিজেন নিচ্ছি, তবুও আমি দিব্যি ৩ বেলা খাচ্ছি, গোসল করছি, জীবিকার তাগিদে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছি, গান শুনছি, মজার মুহূর্তে হাসছি, রিযিককে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করছি, ফেসবুকে ছবি আপলোড দিচ্ছি, শুটিং করছি, জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
সাধারণ মানুষের অভিযোগের ফিরিস্তি উল্লেখ করে জাহের আলভী বলেন, ‘সাধারণ মানুষদের খুব কমপ্লেইন, কেন তুমি চলে যাওয়াতে আমার জীবন থেমে যাচ্ছে না, কেন তুমি চলে যাওয়াতে আমার মুখে এখনো গান আসে, কেনই বা এখনো আমি ছবি আপলোড দিই, কেনই বা আমি শুটিং করে জীবিকা নির্বাহ করি, কেন এখনো আমি ধ্বংস হচ্ছি না, কেনই বা আমি জেলে পচে মরছি না, কেনই বা আমি রিযিকের সান্নিধ্যে আসলাম, কেনই বা তুমি আসবে না জেনেও তোমার পথ চেয়ে বসে থাকছি না। কেনই বা আমি তোমার বিরহে ধ্বংস হয়ে, নিঃশেষ হয়ে আমাদের রিযিকের জীবনটাও ধ্বংস করছি না! আরো কতকি!’
স্ত্রী ইকরার মৃত্যুকে পুঁজি করে অনেকে অর্থ আয় করেছেন। তা উল্লেখ করে জাহের আলভী বলেন, ‘মাঝে মাঝে এমন এমন কিছু মানুষকে তোমার জন্য আমার সাথে যুদ্ধ করতে দেখি, নিজের চোখকে মানাতে পারি না। তুমি বেঁচে থাকতে এরা আসলে কোথায় ছিল? এদের স্বার্থ কি তোমার স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার ঝাল আমার উপর মেটানোর? কখনো তো দেখিনি আমাদের সংসারে এদের। তুমি জানো, তোমার চলে যাওয়ায় কত মানুষ জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছিল? তোমাকে আর তোমার ভালোবাসার সন্তানকে বেঁচে ডলারের মুখ দেখেছিল! এখনো দেখছে। আমি নিশ্চিত তুমি বেঁচে থাকলে এদের একহাত দেখে নিতে। তোমার সন্তানের প্রতি করুণা দেখানোর দায়ে এদের ধুয়ে দিতে।’
পুত্র রিযিককে সামলানো ও তার সুন্দর জীবন গড়ার কথাও জানান জাহের আলভী। তার কথায়, ‘ইকলি, আমাদের বন্ধুত্ব আমার খুব প্রিয় ছিল। তাই বন্ধুর কাছে “সরি” বলতেই পারি। নিজেকে সামলাচ্ছি, আমার পরিবারকে সামলাচ্ছি, রিযিককে সামলাচ্ছি, তোমার আমানতকে একটা সুন্দর জীবন দেওয়ার চেষ্টা করছি, এই জন্য পারলে মাফ করে দিও।’
ইকরার সঙ্গে দেখা হওয়ার বাসনা ব্যক্ত করে জাহের আলভী বলেন, ‘নামাজের বিছানায় মোনাজাতে তুমি আমার প্রথম সারিতেই থাকো। তুমি বেঁচে থাকবে আমার মধ্যে, আমার সন্তানের মা হয়ে। একশত একটা অভিমান তোমার প্রতি, তবুও কোন ক্লেশ নেই। দেখা হবেই তোমার সাথে, মিস নাই। বাকি আড্ডা সেদিনের জন্য রেখে দিলাম। অভিমানটাও। যেখানেই থাকো, ভালো থাকো আর আমাদের দেখে রাইখো, বিশেষ করে আমাদের রিযিককে। কালকে অনেকগুলো রিযিক তোমার নামে কোরআন তেলাওয়াত করবে, তোমার জন্য দুআ করবে। তুমি ভাগ্যবতী। নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রিয় বান্দা।’
বলে রাখা দরকার, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর অর্থাৎ ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

