২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন শুধু শিরোপার লড়াই নয়, ইতিহাস নতুন করে লেখারও মঞ্চ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত এবারের আসরে ইতোমধ্যেই ভেঙেছে একাধিক বিশ্বকাপের রেকর্ড। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যক্তিগত গোলরেকর্ডে নতুন ইতিহাস গড়েছেন, অন্যদিকে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল করা দেশের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে ব্রাজিল।
সেমিফাইনালে ওঠার পথে প্রথম ছয় ম্যাচে আট গোল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারে ২১ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এতদিন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে শীর্ষে থাকলেও, এবার তাকে ছাড়িয়ে গেছেন মেসি।
একইভাবে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২০-এ উন্নীত করেছেন। এর ফলে ক্লোসেকেও পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপ্পে।
দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড নিয়েও হয়েছে পালাবদল। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ ব্যবধানে জয়ের পর একসময় ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল জার্মানি। তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গোল করে ব্রাজিল আবারও শীর্ষস্থান পুনর্দখল করেছে। বর্তমানে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মোট গোল ২৪৭টি, জার্মানির ২৪৩। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, তাদের গোলসংখ্যা ১৬৯।
এদিকে এবারের বিশ্বকাপ নিজেও একটি নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে বিশ্বকাপ, যা ১৯৯৮ সাল থেকে প্রচলিত ৩২ দলের আসরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বড়।
বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাসেও ব্রাজিলই সবচেয়ে সফল দেশ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওদের পর রয়েছে জার্মানি ও ইতালি, যাদের শিরোপা চারটি করে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তিনবার, আর ফ্রান্স ও উরুগুয়ে দুবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। ইংল্যান্ড ও স্পেনের ঝুলিতে রয়েছে একটি করে শিরোপা। এবারের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়া চার দল- আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড সবগুলোই আগের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ফলে নিশ্চিতভাবেই এবারও পুরোনো কোনো চ্যাম্পিয়নই ট্রফি জিতবে।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ডও নিজের দখলে রেখেছেন মেসি। ৩২টি ম্যাচে তিনি খেলেছেন মোট ২ হাজার ৮৪৪ মিনিট, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির চেয়ে ৬২৮ মিনিট বেশি। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২,২০৬ মিনিট), চতুর্থ জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার (২,১৬০ মিনিট) এবং পঞ্চম লোথার ম্যাথাউস (২,০৪৫ মিনিট)।
বিশ্বকাপ শেষ হতে এখনও বাকি রয়েছে চারটি ম্যাচ-দুটি সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ফাইনাল। ফলে মেসি, এমবাপ্পে কিংবা দলীয় গোলের রেকর্ড সব ক্ষেত্রেই ইতিহাসের পাতায় আরও নতুন পরিবর্তন যোগ হওয়ার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে।

