সত্য সমাচার ডেক্স :
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫,
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আলোচিত ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ ফিরেছেন তিনি। এ ছাড়া সম্প্রতি ‘খোয়াবনামা’ নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- জাহিদ ভূঁইয়া
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকে ফিরে কেমন লাগছে?
পাঁচ বছর ধরে প্রতিনিয়ত একটি প্রশ্নই সবার কাছে শুনতে হয়েছে- নাটকটিতে কবে ফিরবেন? পরিচিতজনদের পাশাপাশি দর্শকও সব সময় চেয়েছেন, নেহাল চরিত্রটি ফিরে আসুক। খুব আনন্দ লাগছে এটা ভেবে, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর মাধ্যমে আবার দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন। ঈদে বাড়ি ফেরার যে একটা আকুতি থাকে মানুষের, নাটকটিতে ফিরে ঈদে বাড়ি ফেরার মতোই আনন্দ হচ্ছে।
অনেকে বলছেন, ‘খোয়াবানামা’ আপনার জীবনের সেরা নাটক। আপনিও কি তেমনটাই মনে করেন?
অভিনয় করি দর্শকের জন্য। তাদের মন্তব্যই শেষকথা। দর্শক এটিকে আমার সেরা কাজ বলছেন, মানে এটাই বড় প্রাপ্তি। কারণ দর্শকের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। এর মাঝেও নিজের মানসিক তৃপ্তির বিষয় থাকে। সেই দিক থেকে ‘খোয়াবনামা’ নিয়ে আমি যথেষ্ট খুশি। এতে ভয় এবং সাহস দুটোর মিশ্রণ ছিল। সাপকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা অনেকেরই নেই। শুটিংয়ের সময় মনে হচ্ছিল, ভুল করলে বিপদ হতে পারে। যখন কবরের মধ্যে জ্যান্ত সাপগুলো আমার শরীরের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় মরে যাওয়া, মৃত্যুর ভয়। আমি একটা লাশ হয়ে কবরে শুয়েছি। ভাবতেই এখনও গা শিউরে ওঠে।
নাটকে তরুণ-বৃদ্ধ দুই চরিত্রেই অভিনয় করেছেন। কাজটি কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
অনেক বেশি। বৃদ্ধ লুকের জন্য প্রস্থেটিক মেকআপের সাহায্য নিতে হয়েছিল। এই লুক নিতে গিয়ে মুখে ফোসকা পড়ে যায়। বয়সের তারতম্য ফুটিয়ে তোলার জন্য শুধু মেকআপ নয়; হাঁটাচলা, দৃষ্টি, সংলাপ বলার ধরন- সবকিছুতেই পরিবর্তন আনতে হয়। আমি এটাকে আমার অভিনয় জীবনের পরীক্ষার মতো মনে করেছি।
সাম্প্রতিক সময়ে আর নতুন কোনো কাজ করেছেন?
কদিন আগেই ‘ক্যাপিটাল অ্যাপার্টমেন্ট’ নামের একটি নাটকের কাজ করেছি। ৯০ দশকের গল্প উঠে এসেছে এতে। শিহাব শাহীনের পরিচালনায় নাটকে আমার সহশিল্পী তটিনী। শিগগিরই এটি প্রচারে আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া গতকাল রাতে চরকিতে মুক্তি পেল ভিকি জাহেদ পরিচালিত ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘অন্ধ বালক’। এতে আমার সহশিল্পী হিসেবে আছেন সাদিয়া আয়মান। ফিকশনটির গল্পে দারুণ একটা টুইস্ট রয়েছে। বরাবরের মতোই চমৎকার কাজ করেছে সাদিয়া। আমাদের জুটি দর্শক সব সময় ভালোবাসে, এবারও তা হবে বলেই আমার বিশ্বাস।
এই সময়ে টিভি নাটকের দর্শক কমেছে বলে অনেকেই বলে থাকেন। এটাকে কীভাবে দেখেন?
টিভি নাটকের দর্শক কমেছে, আমি এটা মানতে নারাজ। আমি যে কাজগুলো করেছি, প্রতিটিরই দর্শক প্রতিক্রিয়া ভালো ছিল। দর্শক কমে গেলে তো সাড়া পেতাম না। আমি মনে করি, নাটকের দর্শক হারিয়ে যায়নি; বরং কিছু দর্শক ভিন্ন মাধ্যমে চলে গেছে। ইউটিউব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তাই আমাদেরও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
ওটিটির কাজ নিয়ে প্রতিক্রিয়া কেমন পাওয়া যায়? নাটকের সঙ্গে এই মাধ্যমের পার্থক্য কী কী?
আমি তো ভালোই প্রশংসা শুনি। ওটিটির দর্শকরা সচেতন এবং সমালোচনামুখর, তাই তারা যখন প্রশংসা করে, সেটা অনেক মূল্যবান হয়। অন্যদিকে পার্থক্যের কথা এলে প্রথমে বলতে হয় সময়ের বিষয়টা। নাটকে কাজের সময়সীমা কম থাকে, তাই দ্রুত শেষ করতে হয়। কিন্তু ওটিটিতে চরিত্র গড়ে তোলার জন্য সময় ও সুযোগ বেশি থাকে। ফলে চরিত্রে গভীরতা আনার সুযোগ মেলে।
চলচ্চিত্রে আসবেন কবে?
আরেকটু সময় নিতে চাই। কারণ চলচ্চিত্র অনেক বড় মাধ্যম। ভালো করে প্রস্তুতি নিয়েই নামা উচিত এখানে। সেই লক্ষ্যে নাচের তালিম নিচ্ছি, মারপিট শিখছি। কয়েকটি নাটকে নাচ ও মারামারি করেছি, তবে তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আমি এখনো নিটোল প্রেমের গল্পের দিকেই বেশি টানি। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, দেখা যাক কী হয়।

