আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন নিজামুদ্দিন বিশ্ব মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা সাদ সাহেবের বড় শাহজাদা মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিজামুদ্দিন বিশ্ব মারকাজ মাওলানা সাদ অনুসারী মোহাম্মদ সায়েম।
এর আগে মওলানা ইউসুফ বিন সাদ সাহেব তাবলিগ জামাতের ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার লক্ষ্যে বেশি বেশি জামাত যেন আল্লাহর রাস্তায় বের হয়। ইজতেমায় বিশেষভাবে দ্বীনের দাওয়াতের গুরুত্ব ও ঈমান-আমল সংক্রান্ত কথা বলেন তিনি।
শেষ দিনের হেদায়েতি বয়ানে তাবলিগের ৬ উসুল- কালেমা, নামাজ, এলেম ও জিকির, ইকরামুল মুসলিমীন, ইখলাছে নিয়ত (সহিহ নিয়ত) এবং দাওয়াত ও তাবলীগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লায় যাবেন তারা কীভাবে মেহনত করবেন সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এ ছাড়া যারা ইজতেমা ময়দান থেকে নিজ বাড়ি বা এলাকায় ফিরবেন তাদেরকে তাবলিগের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রবিবার ফজরের পর বয়ান করেন ভাই মোরসালিন সাহেব দিল্লি নিজামউদ্দিন, বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুফতি আজিম উদ্দিন। এরপর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে হেদায়েতের বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ, তা তরজমা করেন মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ।
এদিকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রবিবার ভোর থেকেই লাখো লাখো মুসুল্লি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমা ময়দানে এসে উপস্থিত হন।
ইজতেমা শেষে মুসল্লিদের যাতায়াত সুবিধার জন্য আটটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগ।ট্রেনগুলো হচ্ছে- বনলতা, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, সুবর্ণলতা,পর্যটক এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এই পাঁচটি বিশেষ ট্রেন ছাড়াও এদিন টঙ্গী স্টেশনে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি রাখা হয়েছে।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে নিরাপত্তা নজরদারি বাড়িয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। যেকোনো ধরনের উদ্ভূত ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৭ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান।

