আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো এ হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ।
প্রায় তিন মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর এ হামলায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়তার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও চারজন। হামলায় বাড়িটিও ধ্বংস হয়ে যায়।
এ ছাড়া পাকতিকার বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রগুলো হামলাগুলোকে আফগানিস্তানে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তান পরে দাবি করেছে, এসব হামলায় ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ অবশ্য বেসামরিক হতাহতের কথা জানিয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে অবস্থানরত জঙ্গিরা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায় এবং কাবুল তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং জঙ্গিবাদকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাবি করছে।
সোমবারের হামলার কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পুলিশ স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা হয়। এতে বহু মানুষ নিহত হন। ওই ঘটনার পর পাকিস্তান সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। মার্চেও আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরে জুলাইয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে ইসলামাবাদ দাবি করে।
সামরিক সক্ষমতার দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীতে ৪২২টি যুদ্ধবিমান ও ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই; দেশটির কাছে কয়েকটি বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং ড্রোন রয়েছে।

