সত্য সমাচার ডেস্ক:
আগস্ট ২৩, ২০২৬
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় প্রথম দফার রদবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নতুন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা, একজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী করা, কয়েকজনের দপ্তর বদল এবং একজন মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর এখন আবারও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের পরপরই তিনজন নতুন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। একই সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একজন মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন করা হয় এবং আরেকজনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়।
সরকার-সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, এই পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ছয় মাসের কর্মমূল্যায়নের প্রাথমিক ফল। অন্যদের ধারণা, শূন্য পদ পূরণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই রদবদল করা হয়েছে।
তবে এই পরিবর্তনেই শেষ নয় বলে আভাস মিলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় আরও একটি দফা পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, পরবর্তী রদবদল সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
সর্বশেষ পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন মন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন।
মন্ত্রিসভার নতুন কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকার বিষয়টি নিয়ে। কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে একই সঙ্গে পূর্ণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রয়েছেন। আবার তুলনামূলক ছোট কিছু মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দুজনকেই রাখা হয়েছে।
এ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দায়িত্ব বণ্টনের এই কাঠামো কতটা কার্যকর হবে। সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের নীতির সঙ্গে মন্ত্রিসভার আকার বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মিতব্যয়িতা সরকারের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিলেও মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বাড়ায় সেই বার্তার সঙ্গে কিছুটা বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ রদবদলের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পাশাপাশি দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন। একটি মন্ত্রণালয়ে একসঙ্গে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের ঘটনা আগে দেখা যায়নি বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান কৃষি, রুহুল কবির রিজভী শিল্প, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অর্থ ও পরিকল্পনা এবং ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে হুমায়ুন কবির এত দিন পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২১ আগস্ট তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। তবে বাকি দুই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব তিনি বহাল রাখছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে জহির উদ্দিন স্বপনকে নতুন করে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক রদবদলকে সরকারে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। এখন নজর রয়েছে সম্ভাব্য পরবর্তী পরিবর্তনের দিকে, যেখানে আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রদবদল আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

