রবিউল আলম, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা জুড়ে সর্বমহলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। রাজনীতির প্রচলিত বিভাজনকে ছাপিয়ে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে দল মত নির্বিশেষে ইতোমধ্যে তিনি সর্বস্তরের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। এলাকার মসজিদ ,মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারে আর্থিক সহায়তা, অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা, এতিম ও বিধবা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন মানবিক সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত করেছেন।
দুর্যোগকালীন সময়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, শীতপ্রবাহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও সড়ক দূর্ঘটনায় আহত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দ্রুত পৌঁছে যেতে দেখা গেছে তাঁকে। স্থানীয়রা বলছেন, অনেক সময় প্রশাসনিক সহায়তা পৌঁছানোর আগেই রফিকুল ইসলাম খান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
উল্লাপাড়া-সলঙ্গার হাট বাজার, চা দোকান, গ্রামীণ বৈঠক ও সামাজিক আড্ডায় এখন নিয়মিত আলোচনায় উঠে আসছে তাঁর নাম। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান রাজনীতিতে যখন নেতাদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে, তখন রফিকুল ইসলাম খানের মতো ব্যক্তিত্ব ব্যতিক্রম হিসেবে সামনে আসছেন। গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, আমরা দল দেখি না, মানুষ দেখি। উনি মানুষের মতো মানুষ বলেই সবাই ভালোবাসে।
তরুণ সমাজের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ছে, যা তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলছে। স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, উনি রাজনীতিবিদ হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যেভাবে মিশে যান, সেটাই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
নারী সমাজের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা যায়। অনেক পরিবার বলছে, সংকটের মুহূর্তে তাঁকে কাছে পাওয়া যায়। বিশেষ করে অসহায় নারী ও শিশুদের বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা করে থাকেন, যা এলাকায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
নিজের জনপ্রিয়তা ও মানুষের ভালোবাসা প্রসঙ্গে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই উল্লাপাড়ার জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় বিবেচনায় আমি কাউকে দেখি না, আমি দেখি সে উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা কিনা। আমার প্রতিবেশী হিসেবে তাদের পাশে থাকা জরুরি। তাই আমি বিশ্বাস করি রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। দলীয় পরিচয় বড় নয়, বড় হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষ হিসেবে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় উল্লাপাড়ায় দল মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় এক নাম হয়ে উঠেছেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তাঁর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার চর্চাই পারে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিতে।

