স্টাফ রিপোর্টার
১ জানুয়ারি ২০২৫
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো ধরনের নাশকতার প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। বৈদ্যুতিক লুজ কানেকশনের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে কমিটি। ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগার দুই ঘণ্টা পর দৃশ্যমান হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
তার সঙ্গে প্রাথমিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞ দলের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিনাটি জেনে নিয়ে ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। মাকসুদ হেলালী বলেন, আমরা প্রথম দিন থেকে অত্যন্ত সময় নিয়ে বিষয়টি খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসহ একাধিক বাহিনী আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছে। তদন্তকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করতে দেশে-বিদেশে আরও কিছু টেস্ট আমরা করবো। স্যাম্পলগুলো পাঠিয়েছি। সেই রিপোর্টগুলো পেলে আমরা আরও বেশি নিশ্চিত হতে পারবো।
আগুনের সূত্রপাতের সময়টা ১টা ৩২ মিনিট থেকে ১টা ৩৯ মিনিট। এটা নির্দিষ্ট সময় নয়। দীর্ঘ ৭ মিনিট ধরে আস্তে আস্তে এটা ছড়িয়ে পড়ে। সচিবালয়ের বিল্ডিংয়ের একটি টানেলের ইফেক্টের কারণে পশ্চিম দিক দিয়ে শুরু হয়ে পূর্ব দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে আগুন দু’টি পৃথক স্থানে লেগেছে। সোর্স একটিই। বাতাসের গতি, ভবনের ডিজাইনের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে এবং মোটামুটি ১২ থেকে ১৪ মিনিটে এই আগুনটি উৎপাদিত হয়েছে। পরে যেটা চূড়ান্ত আগুনে ভার্টিকালি রূপান্তরিত হয়েছে এবং যেটা নেভানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। টানেল ইফেক্ট এবং ফ্ল্যাশওভার হওয়ার কারণে আগুনটি নেভানো খুব কষ্টসাধ্য ছিল। ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলার আগুন যখন ৭ তলায় ছড়িয়ে যায় তখন ৬ তলা না নিভিয়ে ৭ তলায় যাওয়ার সুযোগ ছিল না। যার জন্য নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৬ তলার আগুন নিভিয়ে ৭ তলায় যেতে হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, আমরা সকলে মিলে একটি বিষয়ে একমত হয়েছি। এটি একটি লুজ কানেকশনের কারণে শর্টসার্কিট থেকে এই দুর্ঘটনাটি হয়েছে। এখানে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা আমরা খুঁজে পাইনি।

