আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে উইকেট না হারিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের অবিচ্ছিন্ন ১১৪ রানের জুটিতে বাংলাদেশের লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ রানে। সপ্তম উইকেটে মাত্র ২৬ ওভারের কিছু বেশি সময়ে এই রান যোগ করেন তারা।
দিনের প্রথম সেশন শেষে লিটন অপরাজিত ছিলেন ৯৬ বলে ৮১ রান করে। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার। অন্য প্রান্তে মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৩৮ রানে। দুজনই অবশ্য বেশ কয়েকবার আউট হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আফগানিস্তান।
দিনের শুরুতেই লিটনের ব্যাটে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। কায়েস আহমেদের বলে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে দৃষ্টিনন্দন শট খেলার পরের ওভারেই জিয়া-উর-রহমানকে সোজা ব্যাটে দারুণ একটি চার মারেন তিনি।
লিটনের প্রথম জীবনদান আসে ১৪ রানে। কায়েসের বলে তার ব্যাটের কানায় লেগে ওঠা বল স্লিপে শাহিদুল্লাহর হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। এরপর লিটন ২৬ রানে থাকতে নিজের বোলিংয়েই তার ক্যাচ ফেলেন কায়েস।
নতুন বল নেওয়ার পরও আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন লিটন। ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে মিড-অন দিয়ে বল সীমানাছাড়া করেন তিনি। এরপর মোহাম্মদ সেলিমের বলে পয়েন্ট অঞ্চলে জোরালো শট খেলেন। কিছুক্ষণ পরই ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় অর্ধশতকের দেখা পান এই ব্যাটার। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণার সম্ভাবনাও উঁকি দিতে থাকে।
লিটনকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন মিরাজ। তবে তিনিও ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন। আহমাদজাইয়ের বলে মিরাজের ব্যাটের কানায় লেগে যাওয়া বল স্লিপে তালুবন্দী করতে পারেননি সেদিকউল্লাহ আতাল। পরে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। বলটি দুজনের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে বলে দাবি করেন আতাল। ওই চারেই বাংলাদেশের লিড ৪০০ রানের মাইলফলক ছাড়ায়।
এরপর আহমাদজাইয়ের বলে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন সোজা ব্যাটের শট খেলেন লিটন। পরের বলেই জোরালো আবেদন করেন বোলার, তবে তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে পুনরাবৃত্তিতে দেখা যায়, বলটি লিটনের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগেছিল।
এর আগে তৃতীয় দিনেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। মধ্যাহ্নভোজের আগেই আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৪০ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ হ্যাটট্রিকসহ পাঁচটি উইকেট নেন, আর এবাদত হোসেনের শিকার চার উইকেট। তবে আফগানিস্তানের হয়ে লড়াই চালিয়ে যান রহমত শাহ। তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট শতক।
প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৫৩ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দল। সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫৯ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি দলকে বড় সংগ্রহের পথে ফেরায়।
তৃতীয় দিনের শেষ ছয় ওভারে দুজনই আউট হয়ে গেলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় আফগানিস্তান। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই লিটন ও মিরাজের ব্যাটিংয়ে সেই অগ্রগতি পুরোপুরি হারিয়েছে তারা। বড় লিড নিয়ে এখন ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা জোরালো করেছে বাংলাদেশ।

