ঢাকা২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিদায়ী বিশ্বকাপে সবটুকু উজাড় করে দিতে চান কোহলি

admin
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্পোর্টস ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপই ভারতের হয়ে তার শেষ বিশ্বকাপ—আর এই ভাবনাই তাকে সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার প্রেরণা জোগাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিরাট কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় সেই বিশ্বকাপে ভারতের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়, আর সেই লক্ষ্য পূরণে যা কিছু করা দরকার, তিনি তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

অভিনব মুকুন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেন, ‘ভারতের হয়ে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এটাই আমার প্রেরণা—মাঠে সবকিছু উজাড় করে দেওয়া। লক্ষ্য অবশ্যই বিশ্বকাপ জেতা। আর এর জন্য যা কিছু করা দরকার, যা কিছু, আমি তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’

২০২৭ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে তার মধ্যে কিছুটা ‘অপূর্ণতা’ কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কোহলি তা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছুটা তো আছেই।’

২০২৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হার এখনো তাকে কষ্ট দেয়। কোহলির ভাষায়, সেই আসরে ভারতের পারফরম্যান্স এবং ঘরের মাঠের সুবিধা মিলিয়ে দলের মধ্যে এমন বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে বিশ্বকাপ জয়ে কোনো সন্দেহই ছিল না।

কোহলি বলেন, ‘২০২৫ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আইপিএল জেতার আগে ২০১৬ সালের ফাইনালের কথা আমার বারবার মনে পড়ত। বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়েও আমার একই অনুভূতি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন ৫৪ রানে ব্যাট করছিলাম এবং বড় সেঞ্চুরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম। ভাবছিলাম, ১৪০-১৫০ রান করতে পারলে আমরা জয়ের দারুণ অবস্থানে থাকব। বড় ফাইনালে ৩০০-র বেশি রান হবে, আর আমাদের বোলিং দিয়ে ওদের আটকে দেওয়া যাবে। কিন্তু প্যাট কামিন্সের বলে ব্যাট ছুঁয়ে যখন আউট হলাম, তখন বিষয়টি মেনে নেওয়া খুব কঠিন ছিল। অনেক দিন পর্যন্ত সেটা মাথা থেকে বের করতে পারিনি। বারবার সেই মুহূর্তের কথাই মনে হতো।’

২০২৩ সালের পুরো বিশ্বকাপের পরিবেশ অবশ্য কোহলির কাছে ছিল অসাধারণ। তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্বকাপটাই দারুণ ছিল। পরিবেশ ছিল অসাধারণ। দলের মধ্যে সবার মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব ছিল। সবাই একে অপরের জন্য খেলছিল।’

হার্দিক পান্ডিয়ার চোটের কথাও স্মরণ করেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘হার্দিকের মতো একজন খেলোয়াড়কে শুরুতেই হারানো বড় ক্ষতি ছিল। তবে আমরা এরপর কী হবে, সেটা নিয়ে কখনো আলোচনা করিনি। এরপর মোহাম্মদ শামি এসে একের পর এক উইকেট নিতে শুরু করল। আমরা জানতাম, সে কী করতে পারে। সবার মধ্যেই একটা অনুভূতি ছিল—এটাই আমাদের বিশ্বকাপ। একটা আলাদা শক্তি কাজ করছিল। তাই ম্যাচের পরিস্থিতি যখন বদলে গেল, তখন সেটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন ছিল।’

২০২৭ বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ফাইনালে জয়সূচক রান করে ম্যাচ শেষ করতে পারলে সেটি তার ক্যারিয়ারের আদর্শ সমাপ্তি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন কোহলি।

তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই এমন একজন হতে চেয়েছি, যে দলের হয়ে ম্যাচ জেতাবে। আমরা যত ম্যাচ খেলি, প্রতিটিতেই আমি চাই ম্যাচ জেতানোর ভূমিকাটা আমার হোক। এই মানসিকতা কখনো বদলাবে না।’

‘বিশ্বকাপে আমার লক্ষ্য থাকবে দলের হয়ে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জেতানো। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ম্যাচে যদি সেই অবদান রাখতে পারি, সেটাই হবে অসাধারণ। আমার স্বপ্ন ফাইনালে এমন একটি ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলা, যেখানে রান তাড়া করে দলকে জেতানো যাবে। সেটাই হবে আদর্শ পরিস্থিতি। যদি হয়, দারুণ। আর যদি না-ও হয়, আমরা বিশ্বকাপ জিতলে আমি সমান খুশি থাকব।’

কোহলি আরও বলেন, ‘এটাই হবে বিশ্বকাপ খেলার শেষ সুযোগ। তাই ট্রফিটা জেতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাঝখানে থেকে ব্যক্তিগতভাবে যদি সেটা করতে পারি, একজন ব্যাটসম্যানের জন্য এর চেয়ে তৃপ্তির আর কিছু নেই। দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার স্বপ্নই আমাকে তাড়িত করে। আর এই প্রতিযোগিতার মানসিকতাটা আমি হারাতে চাই না।’

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন শুধু ওয়ানডেতেই খেলছেন কোহলি। একইভাবে রোহিত শর্মাও এখন এক সংস্করণে সীমাবদ্ধ। গত কয়েক বছরে শুধু ওয়ানডেতে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ কোহলিকে এই সংস্করণে আরও কার্যকর করে তুলেছে।

২০২৫ সালের আগে ওয়ানডেতে কোহলির ব্যাটিং গড় ছিল ৫৮.১৮। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৮.৫৯। এই সময়ে তাঁর রান করার হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগে প্রতি ১০০ বলে যেখানে ৯৩.৫৪ রান করছিলেন, পরের সময়ে সেই হার বেড়ে হয়েছে ৯৯.৮০।

কোহলি বলেন, ‘প্রথম পরিবর্তনটা হলো, আমি নিজেকে কথা দিয়েছিলাম আরও স্বাধীনভাবে খেলব। মানুষ আমার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করছে, সেটা নিয়ে ভাবব না। দীর্ঘ সময় ধরে আমার ভূমিকা ছিল ইনিংস সামলানো।’

‘আমি জানি, আমি শট খেলতে পারি। কিন্তু কঠিন উইকেটে যদি একটু ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলি এবং বেঁচে যাই, তখন সঙ্গে সঙ্গে একটা চিন্তা আসে—ধীরে খেলো, ইনিংস চালিয়ে যাও।’

‘এখন আমি সচেতনভাবে চেষ্টা করি, সেট হয়ে গেলে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে আরও ৩০-৪০ রান করতে। আমি এমন জায়গায় থাকতে চাই, যেখানে ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্তটা আসলে পরে আরও বড় আক্রমণের প্রস্তুতি। এমন নয় যে একই গতিতে খেলতে থাকব এবং শেষ দিকে গিয়ে শুধু গতি বাড়াব।’

আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে দলগুলো ৩৪০-৩৫০ রান পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও মনে করেন কোহলি। তাঁর বিশ্বাস, ভারতও ৩৫০-৩৬০ রান করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, ‘এখন আমি ঝুঁকি নিতে অনেক বেশি প্রস্তুত। কারণ আমি জানি, আমরা সহজেই ৩৫০-৩৬০ রান করতে পারি। আর আমি যদি বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারি, তাহলে শেষ দিকে আরও বেশি আক্রমণাত্মক শট খেলতে পারব। নিজের চিন্তার মধ্যেই আমাকে সেই স্বাধীনতাটা খুঁজে বের করতে হয়েছে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।