ঢাকা২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কী আছে যুক্তরাষ্ট্র-গ্রিনল্যান্ড-ডেনমার্কের নিরাপত্তা চুক্তিতে?

admin
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন চুক্তিতে সই করেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, স্বাক্ষরিত চুক্তিটি ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আরও সম্প্রসারিত করবে। এর আওতায় গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণে নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগে দুটি নতুন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় ঘাঁটি পিতুফিক স্পেস বেসের কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের পুরো ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। মার্কিন সরকারি জাহাজ ও সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষা এলাকাগুলোর মধ্যে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে চলাচলের অধিকার পাবে। দেশটির সামরিক জাহাজ গ্রিনল্যান্ডের আঞ্চলিক জলসীমায় পানির নিচ দিয়েও চলাচল করতে পারবে। তবে এসব কার্যক্রম গ্রিনল্যান্ডের সমাজ, জীবনযাপন, শিকার, মাছ ধরা ও ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ডের প্রতি সম্মান রেখে পরিচালনা করতে হবে।

চুক্তিতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সংখ্যা বা নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি আরও জোরদারের বিষয়ে সমর্থন জানানো হয়েছে। ডেনমার্কও অঞ্চলটিতে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন হলেও তাকে ন্যাটোর সদস্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রয়োজন হলে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করার কথাও বলা হয়েছে। ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশকে গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না।

তবে চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ন্যাটোভুক্ত দেশ, ন্যাটোর অংশীদার বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের বিনিয়োগকারীদের গ্রিনল্যান্ডের সংবেদনশীল খাতে নিয়ন্ত্রণ বা বড় ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এসব নিয়ম কার্যকর করতে গ্রিনল্যান্ড বিনিয়োগ যাচাই করবে।

চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের স্বার্থ, সমাজ ও জীবনযাপনের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ডেনমার্কের সরকারও জানিয়েছে, চুক্তিটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান করে।

তবে চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর এটি কার্যকর হবে। চুক্তিটির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই এবং পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া এতে পরিবর্তন আনা যাবে না।

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে সেই টানাপোড়েনের অবসানের পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পথ তৈরি হলো।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।