উল্লাপাড়া সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা অবৈধভাবে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উল্লাপাড়া পৌরসভার বিরুদ্ধে। সওজ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ইজারার নামে লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও ভুক্তভোগীরা। সওজ বিভাগ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘এখতিয়ার বহির্ভূত’ ও ‘নিয়মবহির্ভূত’ বলে দাবি করেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উল্লাপাড়া পৌরসভার তেতুলতলা, শ্যামলীপাড়া স্ট্যান্ড, শ্রীকোলা বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড ও রেলওয়ে বাস স্ট্যান্ড এলাকাগুলোতে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। এসব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চলাচলরত ভ্যান, অটোরিকশা, থ্রি হুইলার, লেগুনা, ও মিশুক থেকে নিয়মিত বিরতিতে টাকা আদায় করছে ইজারাদারের নিয়োগকৃত লোকজন।
ভুক্তভোগী পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, ইজারার দোহাই দিয়ে তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশা চালক আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড়া করালেই টাকা দিতে হয়। ইজারার নামে এই জুলুমের কারণে আমাদের সংসার চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে।”
ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের জন্য তারা প্রায় ২৫ লাখ টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট পয়েন্টগুলো পৌরসভা থেকে ইজারা নিয়েছেন। তারা ইজারা নেওয়ার বৈধ দাবি করলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো অনাপত্তি পত্র বা অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। এবং এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের কাছে জিজ্ঞেস করতে বলেন। অভিযোগ উঠেছে, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি যোগসাজশেই এই অবৈধ ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ইজারা প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, “সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে নিয়ম মেনেই চুক্তি হয়েছে এবং সেই চুক্তি অনুযায়ীই আমরা ইজারা দিয়েছি।” তবে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “উল্লাপাড়া পৌরসভার সাথে সড়ক ও জনপথের ইজারা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। থ্রি হুইলার বা যানবাহন রাখার জন্য তারা সাময়িকভাবে জায়গা ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু আমাদের জায়গা অন্য কাউকে ইজারা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার পৌরসভার নেই। এটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনি।”
সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা নাকি স্রেফ ব্যক্তিস্বার্থে দুর্নীতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সওজ’র জায়গায় পৌরসভার এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও ইজারার নামে চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ গ্রহণে দাবি উঠেছে।

