ঢাকা২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উল্লাপাড়ায় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দায়িত্ব অবহেলায় কৃষকের গরুর মৃত্যু

admin
এপ্রিল ১৬, ২০২৫ ৮:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ

১৬ এপ্রিল, ২০২৫

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: শেখ এম এ মতিনের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অজুহাতে সকাল দশটার পর অফিসে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস থেকে চলে যাওয়া, সেবাগ্রহিতাদের সরকারি হাসপাতালে সেবা না দিয়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা দেয়া , ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকাসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এসব কারণে উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। চিকিৎসা না পেয়ে গরু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। বুধবার সকাল দশটায় তার অবহেলায় আবুল কাশেম নামে এক কৃষকের গরুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে ডাক্তারের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী গরুর মালিক।

জানা গেছে, বুধবার সকাল নয়টায় আবুল কাশেম ও তার নুরুল আমিন দেড় মাস বয়সী একটি অসুস্য গরু নিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে যান। এসময় তারা অফিসে ডা: আব্দুল মতিনকে না পেয়ে তার মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি গরুটি নিয়ে তার বাসার সামনে যেতে বলেন ওই কৃষককে। পরে কৃষক আবুল কাশেম গরু নিয়ে ডাক্তার আব্দুল মতিনের বাসার সামনে গিয়ে তাকে ফোন দিলে তিনি তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেন। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও না ডাক্তার না আসায় বাসার পিওনকে দিয়েও খবর পাঠান তারা। এতো কিছুর পরেও ডাক্তারের কর্ণপাত হয়না সেদিকে। অপেক্ষারত অবস্ায় আবুল কাশেমের গরুটি ডাক্তারের বাসার সামনে মৃত্যু হয়।
কৃষক আবুল কাশেম ও তার ছেলে নুরুল আমিন বলেন, সকাল ৯টায় ডাক্তারকে ফোন দিলে তিনি তার বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে খুব চেষ্টা করি ডাক্তারকে বাইরে আনতে তবুও তিনি বের হন না। তার অবহেলার কারণে আমার গরুটি মারা গেলো। তিনি ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধির নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন গরু মারা যাচ্ছে শুনেও তিনি গরুটি দেখতে আসেননি। গরুটি মারা যাওয়ার পরও খবর পাঠালে তিনি বাইরে আসেন নাই।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহিতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, প্রাণী সম্পদ অফিসে ডাঃ এম এ মতিন যোগদানের পর থেকেই সেবার মান নিম্ন মুখী। তিনি সময় মতো অফিসে আসেন না। তিনি অফিসে না বসে ব্যক্তিগত চেম্বারে বসে রোগী দেখেন। হাসপাতালে গরু ছাগল নিয়ে আসলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে বিকেলে দেখা করতে বলেন। অফিসে এসে নামমাত্র দুয়েকটা গরু ছাগল দেখলেও তার মুল টার্গেট থাকে ব্যক্তিগত চেম্বারে পাঠানো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মুল্যের ঔষুধ লেখার অভিযোগও করেন অনেকে। কয়েকজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গরু ছাগলের সামান্য রোগেও তিনি অধিক মুল্যের ঔষুধ লিখে থাকেন। এ কারণে আমরা এখন উপজেলা পশু হাসপাতালে আসতে ভয় পাই। ডাক্তার এম এ মতিনের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্া গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণী সম্পদ অফিসে চিকিৎসার মান উন্নত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শেখ এম এ মতিনের মুঠোফোনে বারবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার্ আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, এরকম হওয়ার কথা নয়, বিষয়টি আমি দেখছি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।