দুনিয়া মানুষের জীবনের শেষ গন্তব্য নয়। ক্ষণস্থায়ী জীবনের পর আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আখিরাতের বাস্তবতা। সেদিন প্রতিটি মানুষ আল্লাহর দরবারে একাকী হাজির হবে, যেখানে ধন-সম্পদ, সন্তান বা বন্ধু কেউই আর কাজে আসবে না। সেখানে মুখবন্ধ হবে জিহ্বা, কথা বলবে হাত-পা, সাক্ষ্য দেবে দুনিয়ার আমল।
মুফতি সাইফুল ইসলাম
এই ভয়াবহ দিনের প্রস্তুতির জন্যই মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে বারবার সতর্ক করেছেন। এমন এক হাদিসে তিনি কিয়ামতের দিনের কঠিন হিসাব ও মুক্তির এক সহজতম উপায় তুলে ধরেছেন—যা একদিকে মানুষকে আল্লাহভীতিতে কাঁপিয়ে দেয়, অন্যদিকে আশার প্রদীপও জ্বালিয়ে দেয়।
সেই হাদিসটি হলো—
عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلاَّ سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تُرْجُمَانٌ فَيَنْظُرُ أَيْمَنَ مِنْهُ فَلاَ يَرَى إِلاَّ مَا قَدَّمَ مِنْ عَمَلِهِ وَيَنْظُرُ أَشْأَمَ مِنْهُ فَلاَ يَرَى إِلاَّ مَا قَدَّمَ وَيَنْظُرُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلاَ يَرَى إِلاَّ النَّارَ تِلْقَاءَ وَجْهِهِ فَاتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ قَالَ الأَعْمَشُ وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ خَيْثَمَةَ مِثْلَهُ وَزَادَ فِيهِ وَلَوْ بِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ.
আদী ইবনু হাতিম (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার রব অতি সত্বর কথা বলবেন। তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোনো তর্জমাকারী থাকবে না। এরপর সে তাকাবে ডান দিকে, তখন তার আগের আমল ব্যতীত সে আর কিছু দেখবে না।
হাদিসের ব্যাখ্যা
হাদিসটির প্রথম অংশ: “তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার রব কথা বলবেন, তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোনো তর্জমাকারী থাকবে না।” এ বাক্যে কিয়ামতের দিনের এক মহা বাস্তব দৃশ্য চিত্রিত হয়েছে।
কোনো দোভাষী থাকবে না, কোনো উকিল থাকবে না, কোনো বন্ধুও পাশে থাকবে না। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا
‘কিয়ামতের দিনে সবাই একাকীভাবে তাঁর কাছে উপস্থিত হবে।’ (সুরা মারইয়াম, আয়াত : ৯৫) অর্থাৎ, আল্লাহ প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—তিনি কী করেছেন, কী বলেননি, কী নিয়তে কাজ করেছেন—সবকিছুই প্রকাশিত হবে।
এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বোঝাতে চেয়েছেন: কিয়ামতের দিন মানুষ নিজেকেই নিজের পক্ষে সাক্ষী হতে হবে। কোনো মধ্যস্থতাকারী বা অনুবাদক থাকবে না। মানুষের অন্তরের ভাবনা, কাজের উদ্দেশ্য, প্রতিটি শব্দ—সবকিছুই আল্লাহর সামনে প্রকাশ পাবে।
