সত্য সমাচার ডেক্স :
২০ নভেম্বর ২০২৫,
আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ ভ্যানে ৬ লাশ পোড়ানো ঘটনায় মনবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন ওই থানার তৎকালীন এসআই শেখ আবজালুল হক। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই মামলায় প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই মামলার আসামি ও রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) আবজালুল। জবানবন্দি শেষে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান। পরে তাকে জেরা করা শুরু করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জেরা অসমাপ্ত থাকায় আজ পুনরায় দিন রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল।
অন্যদিকে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চাঁনখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামের জবানবন্দি শেষ হয়েছে। তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার জন্য আগামী ২৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ পুলিশের আট সদস্য আসামি। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ও অন্য চারজন পলাতক রয়েছেন।
আশুলিয়া থানার সামনে ৬ লাশ পোড়ানোর ঘটনার মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া ৩৪ বছর বয়সী পুলিশের সাবেক এসআই আবজালুল জবানবন্দির শুরুতে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি পুলিশে এসআই হিসেবে যোগদান করি। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানায় যোগদান করেছিলাম।
আবজালুল বলেন, ‘২০২৪ সালে জুলাইয়ে আন্দোলন চলাকালে আশুলিয়া থানার ওসি এএফএম সায়েদ স্যারকে মোবাইলে আন্দোলন দমনসহ বিরোধীদের গ্রেপ্তার করতে মাঝে মধ্যে নির্দেশনা দিতেন স্থানীয় এমপি সাইফুল। এসব নির্দেশনা অধস্তন কর্মকর্তাদের দিয়ে বাস্তবায়ন করতেন ওসি স্যার।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানাধীন পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে আমি সকালে থানায় পৌঁছাই। এর পর অস্ত্রাগার থেকে আমার নামে ইস্যু করা পিস্তল ও গুলি নিয়ে থানার পশ্চিম পাশে দায়িত্বে নিয়োজিত হই। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলার (হ্যান্ড মাইক) দিয়ে থানার সব কর্মকর্তা ও অধস্তনদের নিচে ডাকেন ওসি স্যার। সবার উদ্দেশে জুলাই আন্দোলনে শক্তভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। এর পর অন্য ইউনিট থেকে আসা বেশির ভাগ কর্মকর্তা ও ফোর্সদের নিয়ে বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে যান তিনি। আমাদের দায়িত্ব ছিল থানার গেটে ও ভেতরে। দুপুর আড়াইটায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে ফোর্স নিয়ে থানায় চলে আসেন সায়েদ স্যার।’
এই রাজসাক্ষী আরও বলেন, ‘আমি চলতি বছরের মে মাসে গ্রেপ্তার হই। তবে আমি শহীদ ভাইদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে কোনো ধরনের প্ররোচনা ও প্রলোভন ছাড়া এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য আবেদন করি।’
শহীদ পরিবার ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন আবজালুল।

