স্পোর্টস ডেস্ক
২৪ জানুয়ারি ২০২৫
পারফরম্যান্স বিচারে ২০২৪ সালের সেরা এগারোজন ওয়ানডে ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। মজার ব্যাপার হলো, এগারোজনের মধ্যে ১০ জন ক্রিকেটারই এশিয়ার। শ্রীলংকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ জনকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে জায়গা পেয়েছেন ৩ জন করে ক্রিকেটার। বাকি একজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
আইসিসির সেরা একাদশে ওপেনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব ও আফগানিস্তানের রাহমানুল্লাহ গুরবাজ। ২০২৪ সালে ৯ ম্যাচে ৬৪.৩৭ গড়ে ৫১৫ রান করেছেন সাইম। ৩টি সেঞ্চুরি ও এক হাফ সেঞ্চুরিসহ ১০৫.৫৩ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন তিনি। আরেক ওপেনার গুরবাজ ১১ ম্যাচে ৪৮.২ গড়ে করেছেন ৫৩১ রান। ৩টি সেঞ্চুরি ও ২ হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানো এই নান্দনিক ব্যাটারের স্ট্রাইকরেট ৮৯.৭।
তিন নম্বরে থাকা নিশাঙ্কা ১২ ম্যাচ থেকে ৬৩.১ গড়ে ৬৯৪ রান করেছেন। ৩টি সেঞ্চুরি ও ২ হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানো নিশাঙ্কার স্ট্রাইকরেট ১০৬.৪। চার নম্বরেও লংকান ব্যাটার। কুশল মেন্ডিসকে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ৪ নম্বর জায়গা। দলের উইকেটকিপারও তিনি। গত বছরজুড়ে ১৭ ম্যাচ খেলা এই তারকার রান ৭৪২। ৫৩ গড়ে ব্যাট করা এই তারকা ১টি সেঞ্চুরি করলেও হাঁকিয়েছেন ৬টি হাফ সেঞ্চুরি। স্ট্রাইকরেটও নব্বইয়ের ওপরে।
পাঁচ নম্বরে আবারও লংকান ক্রিকেটার। এই জায়গায় খেলবেন অলরাউন্ডার চারিথ আসালঙ্কা। দলটির অধিনায়কত্বও তার কাঁধে। ১৬ ম্যাচে ৬০৫ রান করা আসালঙ্কার গড় পঞ্চাশের বেশি। প্রায় শতক ছুঁইছুঁই স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা এই তারকা ১টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি হাঁকিয়েছেন ৪টি হাফ সেঞ্চুরি।
এশিয়ার বাইরের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা হয়েছে শেরফান রাদারফোর্ডের। পারফরম্যান্সই কথা বলেছে তার হয়ে। ২০২৪ সালে ৯ ম্যাচেই ৪২৫ রান এসেছে এই মারকুটে ব্যাটারের উইলো থেকে। ঈর্ষণীয় গড় (১০৬.২) আর স্ট্রাইকরেট (১২০.১) তার। ১টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তার ব্যাটে এসেছে ৪টি হাফ সেঞ্চুরি।
অলরাউন্ডার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন আফগানিস্তানের আজমাতুল্লাহ ওমারজাই। ১২ ম্যাচে ৫২.১ গড়ে ৪১৭ রান আছে তার। এর মধ্যে ১৪৯ রানের ইনিংসও খেলেছেন তিনি। সেঞ্চুরি ওই একটি হলেও হাফ সেঞ্চুরি আছে আরও তিনটি। বল হাতেও দারুণ সফল এই পেসার। ১৭ উইকেট ঝুলিতে ভরেছেন গত বছরে। লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে জায়গা হয়েছে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার। ২০২৪ সালে ১০ ম্যাচেই ২৬ উইকেট পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে একবার ১৯ রানেই নিয়েছেন ৭ উইকেট।
মূল পেস বোলার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন পাকিস্তানের দুই তারকা শাহিন আফ্রিদি ও হারিস রউফ। ৬ ম্যাচে ১৭.৬ গড়ে ১৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে হারিস ৮ ম্যাচে ২২.৪ গড়ে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। এগারো নম্বরে জায়গা দেওয়া হয়েছে আলোড়ন তোলা আফগান রহস্য স্পিনার এএম গজনফরকে। গত বছর ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট পেয়েছেন তিনি। গড়টাও বেশ ঈর্ষণীয়, মাত্র ১৩.৫৭।

