সত্য সমাচার ডেস্ক::
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলন, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। খুলেছে অধিকাংশ পোশাক কারখানা, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে সাভার ও আশুলিয়ায় গতকালও ছিল কিছুটা উত্তেজনা। শ্রমিকদের তিন দফা দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ে সহায়তার অভিযোগে আটক করা হয়েছে তিন শ্রমিক নেতাকে। সাভার ও আশুলিয়া থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ জনকে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, টানা কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলন, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে সরকার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা ও মৌচাকসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেন।
শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকালে দল বেঁধে কারখানায় যাচ্ছেন শ্রমিকরা। অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলেছে, শুরু হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। আগের কয়েক দিনের মতো কোথাও বিক্ষোভ, অবরোধ কিংবা সংঘর্ষের পরিস্থিতি দেখা যায়নি। তবে কিছু কারখানায় এখনও সাধারণ ছুটি থাকায় সেগুলোয় উৎপাদন শুরু হয়নি।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত অধিকাংশ কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব কারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ কারখানা খুলে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। শ্রমিকরা দলে দলে কর্মস্থলে ফিরেছেন। শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, বিশেষায়িত স্ট্রাইকিং ফোর্সের আট প্লাটুন এবং আনসারের পাঁচ প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।

