স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-৩, উত্তরা কার্যালয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে ঘুষ লেনদেন ও দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে মোটরযান পরিদর্শক হাফিজুল ইসলাম খান, যিনি ‘বড় হাফিজ’ নামে পরিচিত বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, হাফিজুল ইসলাম ওরফে ‘ছোট হাফিজ’, মোটরযান পরিদর্শক মিরাজ, অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম এবং আনসার সদস্য মেহেদীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে মিজান, মতি, বাবু, সোহেল, সুমন, রতন ও রানাসহ কয়েকজন দালালের যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিআরটিসির কয়েকজন কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের একটি অংশকে দালালদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। টাকা না দিলে সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও কাজ এগোয় না—এমন অভিযোগও করেছেন তাঁরা। এমনকি বিআরটিএর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশও অর্থ লেনদেন না হওয়ায় কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
কর্মকর্তা বদলি নিয়েও অভিযোগ
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, লাইসেন্স শাখার দায়িত্ব ও কর্মকর্তা পদায়নকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট একজন সহকারী পরিচালককে সরিয়ে পূর্বে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে পুনরায় পদায়ন করানোর পেছনে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া না গেলে অভিযোগটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সম্পদের বিষয়ে তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ঢাকা শহর ও নিজ জেলায় বাড়ি, ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অর্থসম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস, আয়কর বিবরণী ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান
সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল, সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্য, আবেদনপ্রক্রিয়া, সরকারি ফি জমার রসিদ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে অভিযোগে নাম আসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া এবং তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনামপ সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

